ঢাকা-২ ও ঢাকা-৩ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এখন শুধু অপেক্ষা চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার।
জানা গেছে, ঢাকা-২ আসন থেকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদসহ আওয়ামী লীগের ১৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ আসন থেকে ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ সালে কামরুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৩ জনই খাদ্যমন্ত্রীকে সমর্থন দিচ্ছেন। তবে কামরুল ইসলাম ও শাহীন আহমেদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে চলছে পাল্টাপাল্টি শোডাউন,জনসভা,উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আবু সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা ১৩ মনোনয়নপত্র নিয়েছি। সবাই খাদ্যমন্ত্রীকে সমর্থন দেবো। তিনি তার আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি এই আসন থেকে নৌকার পক্ষে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন।’
কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ঢাকা-২ আসনের ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন আমার পক্ষে রয়েছে।’
এ আসন থেকে বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, তার ছেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, নাসির উদ্দিন পিন্টুর ছোট ভাই হাজী মনির হোসেন মনি, কামরাঙ্গীর চরের সাবেক চেয়ারম্যান মনির হোসেন দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এই আসন থেকে আমান উল্লাহ আমানকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তাদের ভেতরে কোনোরকম কোন্দল থাকবে না।
কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন মিনু বলেন, ‘আমরা যে কয়জন বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনেছি সবাই আমান উল্লাহ আমানকে সমর্থন দেবো। তিনি চুড়ান্তভাবে এই আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন।’
ঢাকা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও হাজী আতাউর রহমান। তবে এই আসন থেকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মনোনয়ন পাবেন বলে অধিকাংশ নেতাকর্মী মনে করছেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী সাকুর হোসেন সাকু বলেন, ‘এই আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় কোনও কোন্দল নেই। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।’
তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য হাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমি দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র থেকে এই আসনে নির্বাচন করবো।
আর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, তার পুত্রবধূ নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী অর্পনা রায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, বিএনপি নেতা আবু বকর সিদ্দিক কাউছার, সুলতান নাসের, আহসান উল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী রেজাউল কবীর পল ও মিনহাজ মিনার। এই আসনে বিএনপির বড় রকমের দলীয় কোন্দল রয়েছে বলে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। যার প্রভাব প্রার্থী বাছায়ের পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু বলেন, ‘এই আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী। আমিসহ নিপুণ রায় চৌধুরী ও অর্পনা রায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সমর্থন দেবো। তবে বাকি যারা এই আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছেন তারা গয়েশ্বর চন্দ্রকে ডিস্ট্রাব করতে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। আশা করি এই বিভাজন থাকবে না।’
ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী রেজাউল কবীর পল বলেন, ‘নির্বাচন করতে আমি মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছি। আশা করি আমি চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পাবো।’








