টাঙ্গাইলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় বাদী পক্ষের তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। তিন আদালতে এই মামলায় এপর্যন্ত ১১জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ফারুক হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেই অনুয়ায়ী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল ১০টা ৫০মিনিটে মামলার অন্যতম আসামি এমপি রানাকে টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। পরে ১১টা ১৫মিনিটে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাকসুদা খানম মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী খালেকুজ্জামান, সুরুজ্জামান ও মির্জা রানার সাক্ষ্য নেন। পরে মামলার বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা দুপুর ১২টা ১৫মিনিটে এই তিনজন সাক্ষীর জেরা সমাপ্ত করেন। একইসঙ্গে বিচারক আগামী ৩১ জানুয়ারি অন্যান্য সাক্ষীর সাক্ষ্য নেবেন বলে দিন ঠিক করেন।
দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিন্ম আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কলেজপাড়া এলাকার তার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এমপি রানা ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ।








