বর্ষায় রাজবাড়ীর শহররক্ষা বাঁধের এক কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের পর এবার শুকনা মৌসুমে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধের গোদার বাজার এলাকার প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
হঠাৎ করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। কারণ ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকিতে রয়েছে শত শত ঘরবাড়ি। অনেকে এরই মধ্যে বসতবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, গত বছর নদীতে ড্রেজিং করে বালু তোলায় এবার শুকনা মৌসুমে আবারও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। চলতি বছরে বর্ষায় নদীতে পানি বেশি থাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছিল। এখন নদীতে পানি কম। কিন্তু হঠাৎ বুধবার সন্ধ্যা থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে গোদার বাজার এলাকার একটি ইটভাটাসহ অনেক ঘরবাড়ি। ভাঙন দ্রুত রোধ করা না গেলে রাজবাড়ী শহররক্ষা বাঁধসহ পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের গগোপালবাড়ী গ্রামের মজিবর বলেন, ‘পদ্মার রাজবাড়ী অংশে নদী খননের ফলেই এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছরিয়ে পরেছে। ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। অনেকে তাদের আসবারপত্র গুছিয়ে বসত বাড়ি নিতে নিতে শুরু করেছে।’
রাজবাড়ী জেলা সদরের বেড়াডাঙ্গা এলাকার সাদ প্রামানিক বলেন, ‘রাজবাড়ীতে কোনও দর্শনীয় স্থান না থাকায় মানুষ একটু বিনোদনে জন্য নদীর শহর রক্ষা বাঁধে আসে। এখন নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে শহর রক্ষা বাঁধও যেকোনও সময়ে ভেঙে যেতে পারে।’
সদর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান জানান, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া থেকে পাংশা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গি পর্যন্ত ৮৫ কিলোমিটার নদীপথ।
বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করে গোদার বাজার এলাকার পদ্মা নদীর তীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ১০০ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। প্রতিরক্ষা বাঁধটি পুনর্নির্মাণের জন্য ডিজাইন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু হবে।








