কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে দাখিল করা ৫৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। কিশোরগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন। রবিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে। এখানে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জান রঞ্জনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘ঋণখেলাপির দায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণখেলাপি।’
এই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্যরা হলেন- হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার কারণে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নূরুল ইসলাম, একই কারণে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র না থাকায় জাতীয় পার্টির এরশাদ হোসাইন, জেএসডির মো. লুৎফর রহমান, বিদ্যুৎবিল খেলাপি থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সালাউদ্দিন রুবেল ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র না থাকায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) প্রার্থী মীর আবু তৈয়ব মো. রেজাউল করিম।
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় বিএনপির বিকল্পপ্রার্থী মো. শরীফুল ইসলাম ও সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণে একই দলের বিকল্পপ্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আয়করের কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, একই কারণে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইউসুফ ও আয়ের উৎস বিবরণীতে স্বাক্ষর না থাকায় জেএসডির অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ড. মিজানুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মনোনয়নপত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উল্লেখ করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র ও আয়-ব্যয়ের ফরম পূরণ না করায় বিএনপির বিকল্পপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুমনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। আয়ের উৎসের কাগজে স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ডা. এমানুল হক ইদ্রিছ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আম্মান খান ও শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও একভাগ ভোটারের তালিকায় গরমিল থাকায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান নয়নের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী না থাকায় বিএনপির বিকল্পপ্রার্থী সুরঞ্জন ঘোষের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের একমাত্র নারীপ্রার্থী জাসদের সেলিনা সুলতানার মনোনয়নপত্র আয়-ব্যয়ের কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় বাতিল করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ২ হাজার টাকা বিদ্যুৎবিল খেলাপির কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মুছা খান ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আয়ুব হুসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা আগামী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে আপিল করতে পারবেন।







