মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বিএনপির চার প্রার্থীর মধ্যে তিন জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। রবিবার (২ ডিসেম্বর) তাদের প্রার্থিতা বাতিলের পর সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনে তারা এই আপিল আবেদন করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস এ তথ্য জানিয়েছেন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া বিএনপির চার প্রার্থী হলেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পদত্যাগ করা দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক, মানিকগঞ্জ-২ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান ও পদত্যাগ করা সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান খান এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের পদত্যাগ করা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। এছাড়া ঋণখেলাপীর অভিযোগে মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মান্নানের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়।
এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় আবিদুর রহমান খান, আতাউর রহমান ও তোজাম্মেল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে মিল না থাকায় মঈনুল ইসলাম খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এতে মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা ওই তিন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। বিএনপির আরেক প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মান্নানের মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) আপিল আবেদন করার কথা রয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র এবং প্রার্থীরা জানান, গত রবিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের বিএনপির চারজনসহ মোট আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণার বিপক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন বিএনপির তিন প্রার্থী। এছাড়া মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির আবদুল মান্নানেরও মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হলে তিনিও সোমবার আপিল করেন।
আবিদুর রহমান খান ও আতাউর রহমান জানান, সোমবার তারা মনোনয়নপত্র বাতিলের বিপক্ষে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। আপিলে তারা প্রার্থীতা ফিরে পাবেন বলে আশাবাদী।
তোজাম্মেল হকের বড়ভাই গোলাম ইয়াছিন জানান,তোজাম্মেল ঢাকার পল্টন থানায় নাশকতার মামলায় বর্তমান গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। ভাইয়ের পক্ষে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন।
মঈনুল ইসলাম খান জানান, প্রার্থিতা ফিরে পেতে মঙ্গলবার তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মান্নানের ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলম জানান, যে ব্যাংকে তার চাচাকে ঋণখেলাপী দেখানো হয়েছে, তিনি ঋণখেলাপী নন বলে ওই ব্যাংক সনদ দিয়েছে। ওই সনদ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র বৈধতার জন্য আপিল করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস জানান, মনোনয়নপত্র বাতিলে বিপক্ষে করা আপিলের শুনানি আগামি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। আপিলের রায় প্রার্থীদের পক্ষে হলে তাঁদের প্রার্থীতা বৈধ হবে এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।








