নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লার সিদ্ধিরগঞ্জ)-এ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নিয়ে খোদ বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে বাদ দিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীই জানে না মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পরিচয় কি, কোথায় তার বাড়ি। কোনও আন্দোলন সংগ্রামেও তাকে রাজপথে দেখা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।
ফতুল্লা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, ‘যাকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে তাকে কোনও দিন দেখিনি। কোথায় থাকেন তাও জানি না। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি মনোনয়নপত্র পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলেন। তাকে বলেছি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে। তারা যদি আমাদের ডাকেন তখন ভেবে দেখা যাবে। ’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে প্রার্থী করায় দলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে চিনে না। নির্বাচনের আর মাত্র ২০ দিন আছে। এই সময়ের মধ্যে তাকে চিনিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া এবং ভোটারদের মন জয় করা খুবই কঠিন কাজ। মনোনয়ন পেয়ে তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা দলের তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। যেহেতু দল তাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে সেহেতু আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। রবিবার আমি, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, ‘আমি আট বছর ধরে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এই আসনে কাজ করে আসছি। বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের শরিক সব দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। আমার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ আলমই প্রথম টেলিফোনে জানিয়েছেন। দুই একদিনের মধ্যে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ করবে। এখানে প্রার্থী বড় বিষয় নয়, ধানের শীষ প্রতীক বড়। এই প্রতীকের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন।’ ধানের শীষ প্রতীক এই আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, ‘বিএনপি আস্তে আস্তে জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তার বড় প্রমাণ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন। আমি দুঃখ পেয়েছি, কষ্ট পেয়েছি। একজন পলিটিশিয়ান হিসেবে কাউকে ছোট করছি না। তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমের অবদান রয়েছে। তাদের আদর্শ আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে তাদের সম্মান করি। কিন্তু যখন দেখলাম জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে (যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাকে ছোট করছি না) তাদের বাদ দিয়ে, সত্যি কষ্ট পেয়েছি। আমার মনে হয় বিএনপি জঙ্গিবাদের কাছে, ফান্ডামেন্টালিস্ট শক্তির কাছে আজ জিম্মি হয়ে গেছে। তাদের কাছে মাথানত করেছে। এটার প্রতিফলন হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন।








