নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গাজীপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘হিজবুত তাহরীরের চার সদস্য’কে আটক করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু প্রচারপত্র এবং নগদ টাকা উদ্ধার করেছে র্যাব সদস্যরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানিয়েছে র্যাব।
আটককৃতরা হলো, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী পাঠানটেক এলাকার শেখ মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে শেখ শরীফ আশরাফ রাজীব (২৮) এবং রাম পাইঠালবাড়ীর দুলাল মিয়ার ছেলে ফাহাদ মিয়া (২০), শেরপুর সদরের বাগলগড়ের জসিম উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩০) এবং ভোলার দৌলতখান উপজেলার মধ্যজয়নগর গ্রামের হারুন মুন্সির ছেলে মিলন মিয়া (৩০)।
র্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার (পোড়াবাড়ী ক্যাম্প) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান,‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন বৃহস্পতিবার সকালে মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘হিজবুত তাহরীর’র কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে লিফলেট বিতরণ করছে। পরে র্যাব-১ এর একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে মিলন মিয়া ও বিল্লাল হোসেনকে আটক করে।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন,‘একই উদ্দেশ্যে এই সংগঠনের কয়েকজন সদস্য বুধবার রাতে গাজীপুরের মাস্টারবাড়ীর (নান্দুয়াইন)এলাকায় একত্রিত হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন উস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণ করার খবর আসে। সেখানেও র্যাব-১ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শেখ শরীফ আশরাফ রাজীব ও ফাহাদ মিয়াকে আটক করেন।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেনান্ট কর্নেল সারোয়ার-বিন-কাশেম জানান, উভয় ঘটনায় আটককৃতদের কাছ থেকে ‘হিজবুত তাহরির’ বেশকিছু লিফলেট, নগদ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আটকরা হিযবুত তাহরিরের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তারা সমমনাদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে সংগঠনের জন্য চাঁদা দিতেন। আটককৃতরা তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চাঙ্গা রাখতে গাজীপুরের মাস্টারবাড়ী জামে মসজিদ, শ্রীপুরের বরমী বাজার জামে মসজিদ, শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা জামে মসজিদে ও আটক রাজীবের বাসাসহ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন সময় আলোচনা সভা করতেন।








