মাদারীপুরে আ.লীগের বিজয়ী তিন প্রার্থী ছাড়া সবার জামানত বাজেয়াপ্ত

মাদারীপুর প্রতিনিধি
০২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:০৫আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:০৫

মাদারীপুর





মাদারীপুর জেলার তিনটি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী নূর-ই-আলম লিটন চৌধুরী, শাজাহান খান ও আবদুস সোবহান গোলাপ বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। এই জেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাদে বাকি ১০ জনের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মাদারীপুর-১ (শিবচর):
মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ আসনে এবারে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৯৭৫ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে শতকরা ৯৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূর-ই-আলম লিটন চৌধুরী পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৯৩ ভোট, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী জাফর আহমাদ পেয়েছেন ৪৫২ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৩১৩ ভোট, গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে জাকের পার্টির মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ৯০ ভোট, লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম মিন্টু পেয়েছেন ৬২ ভোট।
এই আসনে আওয়ামী লীগের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। এখানে বিগত দিনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি বিএনপি। তার ভোটের ব্যবধান ছিল অনেক।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূর-ই-আলম লিটন চৌধুরী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী পান ৩২ হাজার ৩৭০ ভোট এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী পান ২ হাজার ৪২৭ ভোট।
মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর):
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের প্রাপ্ত ভোট, ভোট প্রদানের শতকরা হার ও প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধান অভাবনীয়।
মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুরে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৩০ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৩ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জন ভোটার। ভোটের শতকরা হার ৯২ দশমিক ১৩ যা নবম সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ১০ ভাগেরও বেশি।
এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাজাহান খান পেয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৭৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র প্রার্থী মিলটন বৈদ্য ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৫৮৮ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আল-আমিন মোল্লা সিংহ প্রতীকে পেয়েছেন ২০৪২ ভোট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী লোকমান হোসেন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭২২ ভোট, জাকের পার্টির মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ২৩৬ ভোট।
এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাজাহান খান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৯ ভোটের মধ্যে শাজাহান খান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৩ ভোট। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হেলেন জেরিন খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ২৮ হাজার ৫৯৪ ভোট। তখন ভোট প্রদানের শতকরা হার ছিল ৮১ দশমিক ৭৫ ভোট।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বিএনপি’র ভোট কমেছে অনেকে। ২৮ হাজার ৫৯৪ ভোটের স্থলে এবারের প্রাপ্ত ভোট মাত্র ২ হাজার ৫৮৮ ভোট। বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ২৮৯ ভোট। এবারের ব্যবধান ৩ লাখ ৯ হাজার ১৫২ ভোট। অর্থাৎ এবার ভোটের ব্যবধান দ্বিগুণেরও বেশি। এবারের নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসনের মোট ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত দশটি কেন্দ্রে ভোট প্রদানের শতকরা হার ৯৫ থেকে ৯৮ ভাগেরও বেশি রয়েছে।
মাদারীপুর-৩ (কালকিনি ও সদরের একাংশ):
মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ আসনে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৫ ভোটারের মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ২ লাখ ৬০ হাজার ১৭০ জন। ভোট প্রদানের শতকরা হার ৮৭ দশমিক ৩১ ভাগ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী আবদুস সোবহান গোলাপ পেয়েছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ২৯৬ ভোট। অপর প্রার্থী ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী সৈয়দ বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৫৫০ ভোট।
এর আগে এই আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৯০ হাজার ১০৯ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দ আবুল হোসেন পান ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র প্রার্থী হাবিবুর রহমান আজাদ পান ৪৮ হাজার ৩১৯ ভোট। ভোটের পার্থক্য ছিল ৮১ হাজার ৩১৯ ভোট। এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ ভোট।

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম