সাভারে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ প্রায় ৩০ শ্রমিক আহত হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল, গেন্ডা, হেমায়েতপুর, কাঠগড়া, নরসিংহপুর ও জিরাবো এলাকাসহ ১২টি স্পটে এ শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাভারের উলাইল এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোসের কারণে ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের তিনটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানায়, নতুন বেতন কাঠামোতে মজুরি বৈষম্যের কারণে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে সাভারের উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ টিয়ারসেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে জলকামান নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। টানা প্রায় চার ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এ দিকে সকালে হেমায়েতপুর এলাকার ট্যানারি-হেমায়েতপুর সড়ক অবরোধ করে রাখায় সেখানেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও সাভারের কাঠগড়া, জিরাবো ও নরসিংহপুরসহ প্রায় ১২টি স্পটে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ প্রায় ৩০ শ্রমিক আহত হয়।
বেলা সোয়া ১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উলাইল এলাকার আল-মুসলিম কারখানার সামনে শিল্প পুলিশ আশুলিয়া-১ এর এসপি সানা সামিনুর রহমান বলেন, সকাল থেকে সাভারের ১২টি স্থানে সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকরা। এছাড়াও শ্রমিকদের ছুড়া ইট-পাটকেলে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে সাভারে ৬টি ও আশুলিয়ায় ৯টি কারখানা ছুটি ঘোষণ করেছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সাভারে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও মঙ্গলবার সকাল থেকে কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও শ্রমিকদের পৃথক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ৩২ জন শ্রমিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।








