নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিদ্যালয় এলাকায় প্রকাশ্য ধূমপানে নিষেধ করায় ছাত্রদল থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া এক নেতা হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগের সাবেক আহ্বায়কের বাড়িতে। হামলার এ ঘটনা ঘটে বুধবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে গোপালদীর হিন্দুপাড়ায়।
এলাকাবাসী ও পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে উপজেলার সদাসদী উচ্চ বিদ্যালয়ে আঙ্গিনায় স্কুল চলাকালীন গোপালদী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী নেতা তানভীর আহমদসহ ১০/১২জন মিলে ধূমপান করছিল। ওই সময় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য উত্তম কুমার বিশ্বাস তাদেরকে বিদ্যালয় আঙ্গিনায় ধূমপান করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের সামনে তাদের দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
এ ঘটনার জের ধরে বুধবার রাত ৭টার দিকে নব্য আওয়ামী লীগ নেতা তানভীর আহমদসহ শতাধিক লোকজন দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ গোপালদী হিন্দু পাড়ায় হামলা চালায়। তারা গোপালদী পৌরসভা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক উত্তম কুমার বিশ্বাসের বাড়ি ও তার শ্বশুর অরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৫টি ঘর ভাঙচুর করে। এতে আহত হয় ৮ জন। এসময় হামলাকারীরা মালামাল লুটও করে।
এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। গোপালদী ফাঁড়ি ও আড়াইহাজার থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। হামলায় আহতরা হলেন: সাধনা রানী বিশ্বাস(৬৫), সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস (৫৫), নিয়তি রানী বিশ্বাস (৫২), দিপালী রানী বিশ্বাস (৫০), শিশু নিলয় বিশ্বাস(১৫) ও নিরব বিশ্বাস(১২)।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত তানভীর আহমদেকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালদী পৌরসভার মেয়র এমএ হালিম সিকদার বলেছেন, বিকেলের ঘটনাটি তিনি মীমাংসা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাতের হামলার ঘটনাটির বিষয়ে তিনি পরে জেনেছেন স্থানীয়দের কাছ থেকে। তারা হামলার খবর গোপালদী বাজারে মাইকের প্রচারণা থেকে শুনেছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’








