চট্টগ্রামের বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে নিহত বিমান ‘ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী’ মাহাদীর (২৩) আসল নাম মো. পলাশ আহমেদ। তাকে এলাকায়ও সবাই পলাশ নামেই চিনতো। কিন্তু এলাকার বাইরে পলাশ নিজেকে তার পরিচয় দিতো মাহাদী হিসেবে। পলাশ ওরফে মাহাদীর বাবা পিয়ার জাহান সর্দার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে জন্ম পলাশের। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পলাশ সবার ছোট। সে সোনারগাঁওয়ের তাহেরপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। এরপর সে আর পড়াশোনা করেনি। এমনটাই জানালেন পলাশের বাবা পিয়ার জাহান।
তিনি আরও বলেন, ‘পলাশ ছোটবেলা থেকেই অবাধ্য ধরনের ছিল। সে বাবা-মায়ের কথা ঠিকমতো শুনতো না। এলাকায় সবাই তাকে পলাশ নামে চিনলেও সে বাইরে সব জায়গায় নিজেকে পরিচয় দিতো মাহাদি হিসেবে। এলাকায় সে কম আসা-যাওয়া করতো।’
এদিকে কমান্ডো অভিযানে নিহত পলাশের লাশ নিতে চান না তার বাবা পিয়ার জাহান সর্দার। তিনি বলেন, ‘পলাশের লাশ আমি দেখতে চাই না। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাশের খবর শোনার পর থেকে তার মা শয্যাশায়ী। তিনি কারও সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারছেন না।’
প্রসঙ্গত, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৭ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টা ৫ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। বলা হয়, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পরই বিমানটি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। ফ্লাইটে ১৩৪ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু ছিলেন। পরে কমান্ডো অভিযানে সন্দেহভাজন বিমান ‘ছিনতাইকারী’মাহাদী নিহত হয়। বিমানে থাকা যাত্রীরা অভিযানের আগেই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন:
মাহাদীর লাশ নিতে চান না বাবা পিয়ার সর্দার
মাহাদীকে নিয়ে যা বললেন তার বাবা
মাহাদীর নাম রয়েছে র্যাবের ক্রিমিনাল ডাটাবেজে?








