নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশ সদস্য রাসেল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই দিন সোনারগাঁয়ের যুবক আমিনুল ইসলাম ওরফে কালু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে রূপগঞ্জের মামলার আসামিদের নরসিংদী থেকে এবং সোনারগাঁয়ের মামলার আসামিদের সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছয়জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর রূপগঞ্জ উপজেলার মাহনা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনির হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে থাকা মনির হোসেনের দুই শ্যালক পুলিশ সদস্য রাসেল ও রাজু গুরুতর আহত হন। ঘটনার সাতদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল (৩৫) মারা যান। নিহত রাসেল স্থানীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকা পুলিশের এসবি শাখায় কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় রাসেলের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রবিবার রাতে নরসিংদী জেলার মাধবদী বাজার এলাকা থেকে মান্নান ও মাসুদ নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে গত ১ মার্চ রাতে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এনায়েতনগর এলাকার আমিনুল ইসলাম ওরফে কালুকে (২৫) তার স্ত্রীর ‘প্রেমিক’ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পরদিন ২ মার্চ সোনারগাঁ উপজেলার কার্পুদি এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের তীর থেকে পুলিশ তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত কালুর বড় ভাই সামছুল হক বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ রবিবার রাতে নিহত কালুর স্ত্রী রিক্তা বেগম, তার প্রেমিক পলাশ এবং তাদের দুই সহযোগী মাসুম ও ইমরানকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা এ ব্যাপারে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিতে সম্মত হয়েছে। তাদের শিগগির আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। দুটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।








