ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর বাজারে চালককে হত্যা করে সিএনজি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ১ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, ত্রিশাল উপজেলার উজানপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে জিয়াউল হাসান (২৫),ভালুকা উপজেলার ছোটকাশর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৪) ও গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার গলদা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সুরুজ মিয়া (২৫)। আসামিদের মধ্যে জিয়াউল ও ইসমাইল কারাগারে আছে। অপর আসামি সুরুজ মিয়া পলাতক রয়েছেন। ফাঁসির রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট ইনসপেক্টর ঝুটন সরকার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১২ মার্চ বিকেলে যাত্রীবেশে তিনজন ভালুকা উপজেলার কাঁচিনা বাজারের আবুল হোসেনের ছেলে শফিকুল ইসলামের সিএনজি ভাড়া নেয়। সন্ধ্যার দিকে চালককে দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে ও কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ওই উপজেলার জামিদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার বিলাইজুড়া খালে ফেলে তারা সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন স্থানীয়রা শফিকুল ইসলামের মরদেহ খালের পানিতে ভাসতে দেখে পরিবারের লোকজন ও পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় পরের দিন ১৩ মার্চ শফিকুলের বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে ভালুকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এরপর পুলিশ অন্য একটি মামলায় ইসমাইল হোসেনকে আটক করলে সিএনজি চালক শফিকুল হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। ইসমাইল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এরপর পুলিশ ত্রিশাল উপজেলার উজানপাড়া গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে জিয়াউল হাসানকে (২৫) আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
এরপর পুলিশ ওই তিনজনকে আসামি করে চার্জশিট দেন। আদালত দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রবিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শফিকুলের বাবা আবুল হোসেন জানান, মামলার রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চায় তার পরিবার।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এবিএম নুরুজ্জামান খোকন








