গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গোপালপুর করিমুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষার নামে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ অভিযোগ করছেন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকও অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, গোপালপুর করিমুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত শনিবার (৬ এপ্রিল) থেকে মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়। ৫০ নম্বরের এই পরীক্ষায় ফি বাবদ ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। এ ফি নেওয়ায় অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিভাবক হায়দার হাওলাদার বলেন, ‘উপজেলার এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুটি পরীক্ষা হয়। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে বিদ্যালয়ে মডেল টেস্টের নাম করে অতিরিক্ত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এই পরীক্ষায় ৩৩৮ ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষক হাতিয়ে নিয়েছেন। আমাদের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই গরিব। অনেকের এই টাকা দিতে কষ্ট হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক চিত্ত রঞ্জন মণ্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে আমি ছাত্র-ছাত্রীদের এই মডেল টেস্ট পরীক্ষা শুরু করেছি। আমি পরীক্ষার ফির কোনও অর্থ আত্মসাৎ করিনি।’
তবে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মাহবুব দিপু, মুকুল হাওলাদার ও আবু সাইদ সিকদার বলেন, মডেল টেস্ট পরীক্ষার ব্যাপারে কমিটিতে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধান শিক্ষক তার একক সিদ্ধান্তে এই পরীক্ষা নিচ্ছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি কোনও বিধান নেই। এই মডেল টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক যদি কোনও অর্থ হাতিয়ে নিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








