নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জোর করে এক ব্যক্তির পিকআপভ্যান নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে চার পুলিশ সদস্যকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকও রয়েছেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ক্ষমা চাওয়ার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আড়াইহাজার থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে পুলিশের চার সদস্য ওই এলাকার আমান উল্লাহ নামে এক ব্যক্তির একটি পিকআপভ্যান জোর করে নিয়ে আসতে চায়। ওই সময় আমান উল্লাহ পুলিশকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করে। তখন আমান এ ঘটনা ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খোকার ব্যবস্থাপক টিপু মিয়াকে জানায়। পরে টিপু ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে পিকআপভ্যান নিয়ে যাওয়ার ঘটনা জানতে চাইলে তাদের মধ্যে তর্ক হয়।
পরে এসআই নাজমুলসহ চার পুলিশ সদস্য টিপুকে হাতকড়া পড়িয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বাম কান ও মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ ঘটনা স্থানীয় কয়েকশ লোকজন জড়ো হয়ে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে মোফাজ্জল হোসেন খোকার বাড়িতে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে আটক পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে ওসি স্থানীয় চেয়ারম্যান লাক মিয়া ও ৪নং ওয়ার্ড সদস্য খোকা মেম্বারের সহযোগিতায় স্থানীয় লোকজনদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহত টিপু মিয়াকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত টিপু মিয়া জানান, পুলিশ কেন পিকআপভ্যান নিয়ে যাচ্ছে কারণ জানতে চাইলে তাকে তারা হাতকড়া পড়িয়ে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। স্থানীয় লোকজন খবর পেয়ে পুলিশকে গণপিটুনি দেয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, পিকআপভ্যান নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশকে গণপিটুনি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, পুলিশ বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চাপ দিয়েছে। তাই এই ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি।








