জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার টেন্ডারে বাধা ও শিডিউল ছিনিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শিডিউল ছিনতাই এবং ভয় দেখিয়ে শিডিউল জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে জাবি ছাত্রলীগ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় একনেক। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য পহেলা মে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৮ মে) টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ২৫টি শিডিউল কিনেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আজ বুধবার (২৯ মে) টেন্ডার বাক্স খোলা হবে।
‘ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে। ২৬ মে তারা জাবি উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এতে বলা হয়েছে, ২৩ মে শিডিউল কিনে ফেরার সময় ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ২০-৩০ যুবক তাদের শিডিউল ছিনিয়ে নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী পরিচয় দিয়ে তাদের শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দুদকে অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠিয়ে এই টেন্ডার বাতিল করে ই-টেন্ডার ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানার বিরুদ্ধে ‘মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিডিউল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ওই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোম্পানির পক্ষ থেকে ছয়টি শিডিউল কেনা হয়েছিল। জুয়েল রানার ছেলেরা এসে সেগুলো নিয়ে গেছে।’
এছাড়া, আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিডিউল কিনতে ক্যাম্পাসে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ভয় দেখিয়ে বের করে দেয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ছাত্রলীগের শিডিউল ছিনতাই অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবো।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিডিউল ছিনতাইয়ের সঙ্গে ছাত্রলীগ কোনোভাবেই জড়িত নয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্প সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সহযোগিতা করছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার জায়গা থেকে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে ওসব করে থাকতে পারে।’
এদিকে, প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অসহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এছাড়া, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কয়েকদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের কাছে একটি উড়ো চিঠি আসে। ওই চিঠির বক্তব্য ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাসির উদ্দিন।
এ বিষয়ে জাবি উপাচার্য বলেন, ‘বেনামি চিঠিটা পড়েছি। আমরা সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার চেষ্টা করেছি। অনেকেই নানাভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে। ওগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই।’








