গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কালে দুই চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতার দুজন হলো- শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (২৮) ও ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রাব্বি হোসাইন (২৫)।
মামলার অপর আসামিরা হলো- শ্রীপুর পৌরসভার দারোগারচালা গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে সাদ্দাম (৩২), নজরুল ইসলামের ছেলে ফরিদ (৩০), মনু ড্রাইভারের ছেলে কবির হোসেন (৩৮), কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের (মসজিদ মোড়) এলাকার আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (৩৫), কেওয়া নতুন বাজার গ্রামের রিয়াজ (৩৫), বেড়াইদেরচালা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে হেলাল (৩৫) ও উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪০)। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৮-১০জনকে আসামি করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি আফজাল হোসাইন জানান, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পর বুধবার রাতে মাওনা চৌরাস্তার বিভিন্ন মার্কেটের ট্রান্সপোর্ট অফিসে অভিযান চালানো হয়। এসময় চাঁদা তোলার বই, টালি খাতা ও চাঁদার নগদ ৩৬ হাজার ৬৯০ টাকাসহ হাতেনাতে রিপন ও রাব্বি হোসাইনকে আটক করা হয়। ব্যসায়ীরা অভিযোগ করেন চাঁদার রশিদে ১০ টাকা উল্লেখ থাকলেও তারা জোরপূর্বক ১শ টাকা চাঁদা আদায় করতো। গ্রেফতার দুজনের স্বীকারোক্তিতে বাকি সাত জনের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মাওনা চৌরাস্তার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, মাওনা চৌরাস্তায় শতাধিক ট্রান্সপোর্ট অফিস রয়েছে। শ্রীপুরের বিভিন্ন কারখানার উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার জন্য তারা বিভিন্ন কারখানায় ট্রাক সরবরাহ করে থাকেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে গাড়ি প্রতি ১শ টাকা চাঁদা আদায় শুরু হয়। তাদের চাহিদামতো চাঁদা না দিলে অফিস বন্ধ করে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
মজলুম ট্রান্সপোর্টের মালিক মাহফুজ জানান, হঠাৎ একদিন আমাকে জানানো হয় কাল থেকে গাড়ির ট্রিপ প্রতি ১শ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। আমি তাদের চাহিদামতো চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ট্রান্সপোর্ট অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। চারদিন অফিস বন্ধ থাকার পর অফিসের তালা খুলে দেয় মামলায় অভিযুক্তরা। এছাড়াও প্রতিদিনই বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা ওঠানো হয়, কেউ দিতে না চাইলে মারধরের ঘটনাও ঘটায়।








