ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমিতে বেশ কিছু দোকান করে ব্যবসা করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশত দোকান রয়েছে সেখানে। সওজের জমিতে দোকান থাকলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন পৌর মেয়র গোলাম কবিরের লোকজন ৩০-৫০ টাকা করে চাঁদা তোলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মেয়র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধামরাইয়ের ইসলামপুর থেকে ঢুলিভিটা পর্যন্ত সওজের জমিতে প্রায় অর্ধশত দোকান রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এসব দোকান করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে। সওজের জমি হওয়ায় দোকানের ভাড়া দিতে না হলেও পৌর মেয়রকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন একাধিক দোকান মালিক।
হারুন নামের এক দোকানদার বলেন, ধামরাইয়ের থানা স্ট্যান্ডে একটি আধপাকা দোকান নির্মাণ করে তিনি এক বছর ধরে ব্যবসা করছেন। সওজের জমিতে দোকান করায় মাঝে মাধ্যেই কর্তৃপক্ষ তাদের দোকান ভেঙে দেয়। এরপর তারা কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও তা নির্মাণ করেন। এজন্য সওজকে কোনও টাকা দিতে না হলেও প্রতিদিন মেয়রের লোকজনকে ৩০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
শফিফ নামের এক চা দোকানির অভিযোগ, সওজ কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে তাদের দোকান উচ্ছেদ করে দেয়। পরে সন্ধ্যার দিকে ওই ভাঙা দোকানে কিছু জিনিস নিয়ে বসার সঙ্গে সঙ্গেই মেয়রের লোকজন এসে ৩০ টাকা চাঁদা নিয়ে গেছে। দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাদের এমনিতেই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। অথচ তার মধ্যেও মেয়রের লোকের চাঁদা আদায় বন্ধ রাখেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানি বলেন, সওজের জমিতে তারা দোকান নির্মাণ করেছেন। অথচ মেয়র তাদের কাছ থেকে অন্যায় ভাবে চাঁদা আদায় করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ধামরাই পৌর মেয়র বলেন, তার কোনও লোকজন চাঁদা আদায় করে না।
এ বিষেয়ে মানিকগঞ্জ সওজ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুল্লা ভুইয়া বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনও বেশ কিছু দোকান রয়ে গেছে। সওজের জমিতে দোকান থেকে পৌরসভা কোনও চাঁদা আদায় করতে পারে না।
এ ব্যাপরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ এর অধিশাখার উপ-সচিব আব্দুল রউফ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ধরনের কোনও অভিযোগ তিনি পাননি। তবে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








