নদীগর্ভে হারিয়েই গেলো বিদ্যালয়টি (ভিডিও)

মতিউর রহমান, মানিকগঞ্জ
৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৫:২১আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৩১

 

এই বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুরা ইউনিয়নের সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির বয়স ৪৯ বছর। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) পদ্মার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বিদ্যালয় ভবনটি। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য প্রশাসনকে বারবার বলা হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।



অর্ধশতবর্ষী নান্দনিক স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াসালাদ আলী বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনের বিষয়টি অনেক আগেই জানানো হয়েছিল, তবে কার্যকর কোনও প্রদক্ষেপ না নেওয়ায় স্কুলটির শেষ রক্ষা হলো না। নদীগর্ভে হারিয়ে গেলো।’
প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুলটিতে বর্তমানে ১৫৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ১৪, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৩, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৭, চতুর্থ শ্রেণিতে ২৭ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে পাশের একটি মাদ্রাসায় বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, গত এক সপ্তাহে পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে ধুলশুরা ইউনিয়নের দুই শতাধিক বাড়িঘর। এর মধ্যে সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বহু প্রাচীন একটি মসজিদও রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েকটি গ্রামের আরও কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে।
‘পদ্মার ভাঙন থামাও, হরিরামপুর বাঁচাও’ নামে ফেসবুকে আন্দোলন গড়ে তোলা একটি গ্রুপের অন্যতম সদস্য আবেদ হাসান জানান,  হরিরামপুরকে পদ্মার গ্রাস থেকে রক্ষার দাবিতে তারা নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসন ভাঙন রক্ষায় কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি জানান, সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশের কমলাপুর জামে মসজিদটি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা বিপাকে পড়েছেন।
ধুলশুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জায়েদ খান বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িও পদ্মার পেটে যেকোনও সময় চলে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জিওব্যাগ ফেলার জন্য অফিসিয়ালি বলা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনও প্রদক্ষেপ নেয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মানুষের শেষ সম্বলটুকুও গ্রাস করবে পদ্মা।’

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলিয়াস মেহেদী জানান, পদ্মার ভাঙনে ধুলশুরাকে রক্ষার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল। ব্যয়বহুল প্রকল্প হওয়ায় তাদের প্রিপারেশন নিতে দেরি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিলুফার রহমান বলেন, ‘সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি নদীতে হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মওলা মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’

দেখুন ভিডিও...

.

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম