মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ধুলশুরা ইউনিয়নের সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীনের পরদিন শনিবার (৩১ আগস্ট) ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মানিকগঞ্জ শাখা। বরাদ্দের বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। অথচ প্রায় ৫০ বছরের পুরনো স্কুলটি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদফতর থেকে তাগাদা দেওয়া হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিকালে নান্দনিক স্কুলটি মাত্র ৯ সেকেন্ডে পদ্মার ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘বিদ্যালয়টি পদ্মায় হারিয়ে যাওয়ার পর ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিলীন হওয়া স্কুলের পাশেই আরেকটি স্কুল রয়েছে। এটি রক্ষার জন্য বরাদ্দের এই টাকা ব্যয় করা হবে।’
স্কুল নদীতে হারিয়ে যাওয়ার পরদিন শনিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মওলা মো. মেহেদী হাসান, হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলিয়াস মেহেদী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার প্রমুখ।
অর্ধশতবর্ষী স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াসালাদ আলী বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনের বিষয়টি অনেক আগেই জানানো হয়েছিল, তবে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্কুলটির শেষ রক্ষা হলো না। নদীগর্ভে হারিয়ে গেলো।’
সূত্র মতে, গত এক সপ্তাহে পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছে ধুলশুরা ইউনিয়নের দুই শতাধিক বাড়িঘর। এর মধ্যে সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বহু প্রাচীন একটি মসজিদও রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েকটি গ্রামের আরও কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে।
‘পদ্মার ভাঙন থামাও, হরিরামপুর বাঁচাও’ নামে ফেসবুকে আন্দোলন গড়ে তোলা একটি গ্রুপের অন্যতম সদস্য আবেদ হাসান জানান, হরিরামপুরকে পদ্মার গ্রাস থেকে রক্ষার দাবিতে তারা নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসন ভাঙন রক্ষায় কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি জানান, সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশের কমলাপুর জামে মসজিদটি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা বিপাকে পড়েছেন।
ধুলশুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জায়েদ খান বলেন, ‘আমার নিজের বাড়িও পদ্মার পেটে যেকোনও সময় চলে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জিওব্যাগ ফেলার জন্য অফিসিয়ালি বলা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মানুষের শেষ সম্বলটুকুও গ্রাস করবে পদ্মা।’
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলিয়াস মেহেদী জানান, পদ্মার ভাঙনে ধুলশুরাকে রক্ষার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছিল। ব্যয়বহুল প্রকল্প হওয়ায় তাদের প্রিপারেশন নিতে দেরি হয়েছে।
আরও পড়ুন...








