নরসিংদীর রায়পুরায় ডেকে নিয়ে এক পোশাককর্মীকে (২১) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতারের পর সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রবিবার রাত ১২টার দিকে রায়পুরা উপজেলার গৌরিপুরা তালুককান্দি গ্রামের সূর্যের মোড় এলাকার একটি গ্যারেজে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।
ওই নারী গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, রায়পুরা উপজেলার বেগমাবাদ হুগলাকান্দি গ্রামের শিপন মিয়া (২০) এবং তার সহযোগী একই উপজেলার ঘাগটিয়া আলগী এলাকার শামীম মিয়া (১৯)। এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত একই উপজেলার বেগমাবাদ পল্টন এলাকার রুবেল মিয়া পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গাজীপুরের ওই পোশাককর্মীর সঙ্গে দেড় বছর আগে রায়পুরার শিপন মিয়ার ফোনে পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের জেরে শিপন তাকে মোবাইল ফোনে রায়পুরায় আসার প্রস্তাব দেয়। শিপনের কথামতো রবিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে রায়পুরায় যান ওই নারী। রায়পুরার নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ডে নামার পর শিপন ও তার দুই সহযোগী শামীম ও রুবেল তাকে রিসিভ করে।
পরে তারা সিএনজি অটোরিকশায় কিছুক্ষণ যাওয়ার পর নেমে পায়ে হেটে গৌরিপুরা তালুককান্দি গ্রামের সূর্যের মোড় এলাকার একটি গ্যারেজে নিয়ে বসিয়ে রাখে। সেখানে বসানোর কারণ জানতে চাইলে তারা ওই নারীকে জানায় রাতের খাবার খাওয়ার পর বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরে তারা ওই নারীকে ভেতরে রেখে তালাবদ্ধ করে বাইরে বের হয়ে যায়। পাঁচ-সাত মিনিট পর শিপন ভেতরে ঢুকে একটি মাদুর পাতে। এসময় ওই নারী কথা বলতে চাইলে তাকে থাপ্পড় মারে এবং ধর্ষণ করে শিপন।
ধর্ষণ শেষে শিপন তার সহযোগী শামীমকে ডেকে ভেতরে এনে সে বাইরে চলে যায়। পরে শামীম তাকে ধর্ষণ শেষে চলে গেলে আবারও শিপন ধর্ষণ করে। শেষে অপর সহযোগী রুবেলও ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। কান্নাকাটি না করে সকালে চলে যাওয়ার জন্য বলে শিপন। রাতে ওই নারী গ্যারেজ থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে রাতেই ঘটনাটি থানায় জানানো হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’








