নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন দফতরি কাম প্রহরী মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে পেনশনভোগী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া ও নিয়মিত বেতনে উঠানোর সময় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ না দিলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাদের হয়রানি করেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, আব্দুর রহমান আজাদ মনোহরদী উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে যোগদান করেন। এর পর থেকে তার কার্যালয়ে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঘুষ দিতে না চাওয়ায় সুবিধাভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাসহ ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে ফাইলে সই না করে তিনি নানাভাবে হয়রানি করেন।
এ কারণে সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই কর্মকর্তার বিচার দাবি করে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন দফতরি কাম প্রহরী।
তাদের অভিযোগ, তৃতীয় ধাপে নিয়োগ পাওয়া মনোহরদী উপজেলার ৩৪ জন দফতরি কাম প্রহরীদের ৩৬ মাসের বকেয়া বেতনের অর্থ ছাড় হয় গত জুলাই মাসে। ওই টাকার জন্য উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তারা বকেয়া বেতন পাওয়ার পর ঘুষের টাকা পরিশোধ করবেন বলে জানান। কিন্তু পরে তারা ঘুষের টাকা পরিশোধ না করায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ ক্ষিপ্ত হন। সম্প্রতি দফতরিরা তাদের আগস্ট মাসের বেতনের টাকা উঠাতে গেলে তিনি ফাইল আটকে দেন। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বেতন দেওয়া যাবে না বলে তাদের জানানো হয়। বেতনের অর্থ ছাড় করাতে গত কয়েকদিন ধরে কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানানোর পরও কোনও কাজ হয়নি। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী দফতরিরা।
মইশাকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম প্রহরী জামিল মিয়া বলেন,‘উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ স্যারের দাবি অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় আমাদের বেতন আটকে দিয়েছেন। ইউএনও স্যারের মাধ্যমে আমরা এর দ্রুত সুরাহা চাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে আমার ভাতা প্রাপ্তির ফাইল আটকে রেখেছেন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা।’
এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আজাদ বলেন,‘দফতরিদের কাছে আমি কখনও ঘুষ দাবি করিনি।’
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিয়া আক্তার শিমু বলেন, ‘দফতরিদের বেতন না দেওয়ার কোনও কারণ আমি দেখি না। তাদের অভিযোগ পেয়ে ওই কর্মকর্তাকে ডেকে দ্রুত বেতনের অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিয়েছি। তাছাড়া অন্য যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








