নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা ভালোভাবে শেষ করে এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষাতেও সব বিষয়ে বিষয়ে পাস করে ফারজানা আক্তার। এরপর সে এসএসসির ফরম পূরণ করতে গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সে দু বছর আগে জেএসসিতে ফেল করেছে। তাই সে এসএসসিতে অংশ নিতে পারবে না। এ কথা শোনার পর শিক্ষাজীবন থেকে দুটি বছর হারিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ফারজানা। সে জানায়, এর আগে বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে সে পাস করেছে বলে জানানোর পর সে নিয়মিত পড়াশোনা করে আসছে। এদিকে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষকদের ভুলের কারণে এমন হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার গেড়ামারা গোহাইলবাড়ী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ফারজানা ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। সে চান্দুলিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে।
এ বিষয়ে ফারজানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনায় ফারজানার পরিবার ও ওই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফারজানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলে, ‘২০১৭ সালে আমি জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই। পরে ফল প্রকাশ হলে স্যারদের কাছে জানতে পারি আমি পাস করেছি। নিয়ম অনুযায়ী ওই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হই। নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা শেষে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে দশম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করি। এই দুই বছর নিয়মিত ক্লাসও করি। পরে এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দেওয়ার দুদিন পর জেএসসিতে ফেল করার বিষয়টি জানিয়ে স্যাররা আমার টাকা ফেরত দেন।’
ফারজানার বাবা ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি কৃষিকাজ করে মেয়েটিকে অনেক কষ্টে পড়াশোনা করাচ্ছি। এই দুই বছরে তার পড়াশোনায় অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার মেয়ে জেএসসিতে ফেল করেছে সেটা স্যাররা কেনো এখন বলবেন? আর যদি জেএসসিতে ফেল করে থাকে, তাহলে নবম-দশম শ্রেণিতে কেনো পড়ালেখা করালেন তারা। আমার মেয়ের শিক্ষাজীবন থেকে শিক্ষকরা কেনো দুটি বছর কেড়ে নিলেন। আমি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শাস্তি দাবি করছি।’
সরেজমিনে বিদ্যালয়ের নবম-দশম শ্রেণির হাজিরা খাতায় দেখা যায় ফারজানা নিয়মিত উপস্থিত ছিল। নিয়মিত বেতনও পরিশোধ রয়েছে। তবে, ফারজানার ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী সে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ওই মেয়েটি ফেল করেছে। ওই সময় তাকে বিষয়টি জানিয়েও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কীভাবে মেয়েটি নবম-দশম শ্রেণিতে ক্লাস করে নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে ফরম পূরণের সময় বিষয়টি জানতে পারি। এটি শ্রেণি শিক্ষকের ভুলের কারণে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওই ছাত্রীকে পরবর্তী সময়ে জেএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করবো। এছাড়াও তাকে জেএসসি থেকে শুরু করে এসএসসি পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ার সুযোগ করে দেবো। এ ঘটনায় তার ক্ষতি অপূরণীয়। ’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ( ২১ নভেম্বর) ওই ছাত্রীর অভিযোগ পেয়েছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটার তো কথা না। ফল প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী মার্কশিট ও রেজাল্টশিট পায়। এছাড়াও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও পায়। কীভাবে দুটি বছর কেটে গেল কেউ বুঝলো না। না শিক্ষক, না শিক্ষার্থী।’
বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।








