কয়েক সপ্তাহ ধরেই কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় রাতে বন্ধ থাকছে ফেরি। এতে ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ফেরিতে পারাপার হতে তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) ঘাট এলাকায় দেখা গেল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যশোর থেকে চট্টগ্রামগামী পাটবোঝাই ট্রাকের চালক মশিউর রহমান বাবু বলেন, ‘২৩ ডিসেম্বর থেকে দৌলতদিয়ায় ফেরির জন্য অপেক্ষা করছি। এরইমধ্যে মাল ডেলিভারি দেওয়ার তারিখ পেরিয়েছে। কখন ফেরিতে উঠতে পারবো জানি না।’
যশোর থেকে ঢাকাগামী আরেক ট্রাকচালক ইউসুফ আলী আকাশ বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ফেরি পার হবো বলে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় তিনদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। আজ কেবল ফেরির সিরিয়ালের লাইনে এসেছি।’
সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী শাহজাহান বলেন, ‘সকালে থেকে ফেরিতে ওঠার জন্য বাসে বসে আছি। কখন উঠতে পারবো জানি না।’
ইউটিলিটি ফেরি সন্ধ্যামালতীর চালক মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাতে পদ্মা নদীতে প্রচণ্ড কুয়াশা হচ্ছে। ফগলাইট ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। সামনের কিছু দেখা যাচ্ছে না। নদীতে রাতে ছোট নৌকা ও ট্রলার চলে, তাই নিরাপত্তার কারণে ফেরি বন্ধ রাখা হয়।’
সংকটের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, ‘রাতে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে গেলে নিরাপত্তার কারণে সাময়িক সময়ের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রাখছি। কুয়াশার তীব্রতা কমে গেলে দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। এই রুটের যাত্রী ও চালকদের দিনের বেলায় চলাচলের পরামর্শ রইলো।’
প্রসঙ্গত, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ও যানবাহন পদ্মা পাড়ি দেয় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে। প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজারের বেশি যানবাহন ও কয়েক লাখ যাত্রী ফেরিতে পারাপার হয়ে থাকেন। বর্তমানে এই রুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে।








