নারী শ্রমিকদের মজুরি ‘মাছের পেটা’

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, গোপালগঞ্জ
০৬ জানুয়ারি ২০২০, ১১:১১আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩২

 

মাছ কাটছেন নারী শ্রমিকরা

গোপালগঞ্জের শুঁটকি পল্লিগুলোতে মাছ কাটার বিনিময়ে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হয় মাছের পেটা (মাছের নাড়িভুঁড়ি)। তারা পেটা বিক্রি করে যে টাকা পান তা দৈনিক পারিশ্রমিকের চেয়ে বেশি। এ কারণে শ্রমিকরাও মজুরির চেয়ে পেটার বিনিময়ে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। মাছ কাটার কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন গোপালগঞ্জের শত শত নারী।

গোপালগঞ্জে ১০ হাজার ৮৯০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ঐতিহ্যবাহী চান্দার বিল। এখানে জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এক সময় এই বিলে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক মাছ ছিল। এই চান্দার বিলের কারণে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা মাছের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত ছিল।

এছাড়াও জেলার পাঁচটি উপজেলায় রয়েছে ছোট-বড় ১১৪টি বিল। আর এসব বিলের জেলেদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করেন প্রস্তুতকারীরা। শুঁটকি তৈরির জন্য মাছ কাটা হয়। আর এ মাছগুলো কাটেন নারী শ্রমিকরা। মজুরি বাবদ তারা পান কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা। যদি টাকা না নেন তাহলে পান মাছের পেটা। পেটা বিক্রি করে শ্রমিকরা বেশি টাকা পান বলে তারা জানিয়েছেন। এ কারণে তারা টাকার চেয়ে পেটা নিতেই বেশি আগ্রহী।

সরেজমিন গোপালগঞ্জের শুঁটকি পল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট বড় প্রায় ২ হাজার মাঁচা তৈরি করে শুঁটকি বানানো হচ্ছে। চারদিকে মাছের আঁশ ও পঁচা মাছের গন্ধে মাছি ভনভন করছে। কাক ডাকা ভোরে মাছ কাটতে আসেন শত শত নারী শ্রমিক। তারা শুঁটকির মাচার পাশে গোল হয়ে বসে দা-বঁটি নিয়ে ছোট-বড় নানা প্রজাতির টেংরা খৈলসা, পুটি, মলা, টাকি ও মেনি মাছ কাটেন।

মাছের পেটা

মাছ কাটতে আসা জোৎস্না বৈরাগী বলেন, ‘আমরা খুব ভোর থেকে কাজ করি। প্রতিদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কাজ করে ৮০ থেকে ১০০ টাকা মজুরি পাই। তবে মজুরি বাবদ মাছের পেটা নিলে তা বিক্রি করে বেশি টাকা পাই। আমি এখান থেকে যে আয় করি তা পরিবারের পেছনে ব্যয় করি। এতে আমার স্বামী ওপর চাপ কম পড়ে।’

আরেক শ্রমিক উজলী বালা বলেন, ‘আমরা অনেকেই এখানে মাছ কাটার কাজ করি। বেশি কাজ করলে বেশি মজুরি পাই। আমি দৈনিক ৮ থেকে ১০ কেজি মাছ কাটতে পারি। আমরা এখান থেকে পেটা নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। পেটা বিক্রি করে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে যায়।

শুঁটকি প্রস্তুতকারী অমল বালা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি ও বিক্রি করে আসছি। এখানে শুটকি তৈরির জন্য মাছ কাটতে এসে অনেকেই মজুরি হিসেবে টাকা না নিয়ে মাছের পেটা নেয়। আগের তুলনায় এখন দেশি মাছ কম পাওয়া যায়। দাম বেশি থাকায় শুটকি তৈরি ও বিক্রি করে আগের মতো লাভ হয় না। তাই শ্রমিকদেরও বেশি মজুরি দিতে পারি না। তবে আমার এখানে মাছ কাটার কাজ করে অনেক নারী শ্রমিক স্বাবলম্বী হয়েছেন।

মাছের পেটা দিয়ে কি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাছের পেটা কিনে আগুনে তাপ দিয়ে তেল তৈরি করি। পরে এ তেল আবার চ্যাপা শুঁটকি তৈরিতে ব্যবহার করে থাকি। বাজারে চ্যাপা শুটকির দাম বেশি। সারাদেশে এ অঞ্চলের বিভিন্ন ধরণের শুঁটকির চাহিদা রয়েছে।

/জেবি/
সম্পর্কিত
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, আহত ২০
গোপালগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ, একজন কারাগারে 
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে আহাজারি, শোকে স্তব্ধ দুই গ্রাম
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম