আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে চার বছর ধরে আন্দোলন করে আসছিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার যাত্রীরা। অবশেষে রেল বিভাগ তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে শ্রীপুর রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর।
শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্রীপুর বাজারের কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীদের নিয়ে আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলপথে একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে যাত্রাবিরতির গুরুত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। কিন্তু তখন কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। অবশেষে রেল বিভাগ তাদের দাবি মেনে নিয়েছে। এতে করে চার বছরের দুর্ভোগ ও আন্দোলন-সংগ্রামের সমাপ্তি ঘটেছে।
শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী তপন কুমার বণিক বলেন, গত প্রায় চার বছর আগে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, দলমত নির্বিশেষে ও ট্রেন যাত্রীদের নিয়ে দুই বেলা লাল কাপড় দেখিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন। চার বছর ধরেই এটি ছিল তাদের রুটিনমাফিক কাজ।
শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সময় যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির গুরুত্ব উল্লেখ করে অনেকবার আমাকেসহ জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষর ও সুপারিশ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। শ্রীপুর থেকে সড়কপথে স্বভাবিক সময়ে ঢাকা যেতে সময় লাগে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। কিন্তু চলমান যানজট, বিরতিহীন যানবাহন না থাকায় শ্রীপুরবাসীকে ঢাকা পর্যন্ত ৬৮-৭৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে কমপক্ষে চার ঘণ্টা। কিন্তু যমুনা এক্সপ্রেসে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টা।
শ্রীপুর ট্যুরিস্ট যুব উন্নয়ন সমিতির সভাতি জুবায়ের বলেন, এ আন্দোলনে যারাই অংশগ্রহণ করেছেন তারাই নিজের পকেট থেকে টাকা, কায়িক শ্রম ও সময় ব্যয় করেছে। সবই হয়েছে জনস্বার্থে। এরকম একটি সফলতা আবারও প্রমাণ করে দিলো জনস্বার্থ ও নিঃস্বার্থ কাজে মানুষ কখনও বিমুখ হয় না। চার বছর পর হলেও আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেসের দাফতরিক অনুমোদন পেলো।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘শুক্রবারই প্রথম আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেসের যাত্রারিবতির অনুমোদন পেয়েছে। ভোর ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগ করবে আবার ঢাকা থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টায় স্টেশেন এসে পৌঁছাবে। এ স্টেশন থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ৪৫ টাকা এবং ঢাকা পর্যন্ত ৬০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। টিকিটের অনুমোদন হয়েছে তবে নির্ধারিত সিট বরাদ্দ হয়নি। এ কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’








