নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৬ সালে একটি জমি রেজিস্ট্রেশনের ১৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন সাব-রেজিস্টার ও অফিস সহকারী যোগসাজসে এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে শিবলী মতিন নামে এক ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে বৈদ্যেরবাজার সাব-রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠি পাঠানোর পর সাত কর্মদিবস পার হলেও বৈদ্যেরবাজার সাব রেজিস্টার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি ।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০১৬ সালে ৫৪৭২ নং দলিলের ৪৮ শতাংশ জমি মাত্র ৬ লাখ টাকায় বিক্রি দেখিয়ে দলিল করা হয়। তখন যে জমির সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্য ছিল এক কোটি উনষাট লাখ নিরানব্বই হাজার নয়শ’ চুরাশি টাকা। মাত্র ৬ লাখ টাকা দলিল করার কারণে সরকার কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ওই সময় উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চর লাউয়াদী মৌজায় সরকার নির্ধারিত প্রতি শতাংশ নাল জমির বাজার মূল্য ৩ লাখ ৩৩ হাজার তিন শত ৩৩ টাকা ছিল।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী শিবলী মতিন বলেন, ‘আমি ওই এলাকায় জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিলে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি আমার নজরে আসে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এ অভিযোগ করেছি। ক্রেতা ও বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্টরা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি ধামাপাচা দিতে এ দলিলের বিপরীতে আরও একটি হেবা দলিল তৈরি করেছিল। যাতে ওই নাল জমিকে ভিটার জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বৈদ্যেরবাজার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের একাধিক দলিল লেখক জানান, অনেক ভেণ্ডার এখনও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল করে থাকে। এসব কারণে প্রকৃত দলিল লেখকদের বদনাম হয়। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।
অভিযুক্ত দলিল লেখক এইচ এম সেলিম জানান, তিনি দলিল ও পর্চা অনুযায়ী দলিল তৈরি করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সত্য নয়।
বৈদ্যোরবাজারের সাব রেজিস্ট্রার আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৬ সালের একটি দলিলে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে তদন্তের চিঠি তিনি বুধবার (৮ জানুয়ারি) পেয়েছেন। তিনি যতো শিগগিরই সম্ভব তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তদন্তে দলিল লেখক দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সনদ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার মো. জিয়াউল হক জানান, বৈদ্যোরবাজার সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে তার দফতরে একটি অভিযোগ এসেছে। বৈদ্যোরবাজার সাব রেজিস্ট্রারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য চিঠি দিয়েছেন। রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হলে অবশ্যই এ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।








