নামের মিলের কারণে জেলখাটা চা বিক্রেতার অবশেষে মুক্তি

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০২আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২০:০৮

রফিকুল ইসলাম নামের সঙ্গে মিল থাকায় করাতকলের মালিকের পরিবর্তে গ্রেফতার হওয়া রফিকুল ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন। সাত দিন জেল খাটার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মীর রকিবুল হক বলেন, ‘গাজীপুর জেলা বন আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন্নাহার বৃহস্পতিবার রফিকুল ইসলামকে মুক্তির আদেশ দেন। এর আগে বুধবার ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চায় আদালত। মামলার সঙ্গে চা বিক্রেতা রফিকুলের কোনও সম্পর্ক নেই মর্মে থানা পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিলে বৃহস্পতিবার আদালত মুক্তির আদেশ দেন।’
গাজীপুর জেলা কারাগারের জেলার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আদলতের আদেশের কপি পাওয়ার পর সম্ভাব্য সব ধরনের যাচাই-বাছাই করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রফিকুলকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা কারা গেট থেকে তাকে নিয়ে যান।’
ছেলেকে পেয়ে রফিকুল ইসলামের বাবা নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি আল্লাহতায়ালা ও আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ। শুধু পুলিশ নয়, কারও ভুলের কারণে কোনও নিরাপরাধ মানুষ যেন দুর্ভোগের শিকার না হয়।

প্রসঙ্গত, বন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় গত ১৭ জানুয়ারি রফিকুলকে গ্রেফতার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। রফিকুল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর সভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড (দারগারচালা) এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে।
১৭ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিন চা স্টল থেকে গ্রেফতার করেন রফিকুলকে। এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসী রফিকুল প্রকৃত আসামি না বলে জানালে পুলিশ তাকে কর্ণপাত না করে তার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে নিয়ে যায়। রফিকও এ সময় অনেকবার মিনতি ও কান্নাকাটি করে তার নামে কোনও মামলা না থাকার কথা জানান। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই কফিল কারও কথা আমলে না নিয়ে এমনকি যাচাই না করে তাকে নিয়ে যান।
শ্র্রীপুর বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্সবিহীন করাতকলে গজারি গাছ চোরাই করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শ্রীপুর সদর বন বিট অফিসার সহিদুর রহমান কেওয়া পশ্চিম খণ্ডের বেগুন বাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলামকে আসামি করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বন) আদালতে একটি মামলা করেন। এ মামলায় রফিকুলের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে শ্রীপুর থানাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন বন আদালত।
অপরদিকে, এ মামলার প্রকৃত আসামি নূর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি করাতকলের ব্যবসা করি। মামলাটি আমার বিরুদ্ধেই করা হয়েছিল। তবে আমি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছি।’
আরও পড়ুন: 
নামে মিল থাকায় করাতকল মালিকের পরিবর্তে কারাগারে চা বিক্রেতা

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম