গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বেলতলী গ্রাম ও শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা (দোখলা) বাজারের পাশ দিয়ে গেছে লবলং খাল। এই খাল পারাপারে ব্রিজ থাকলেও নেই সংযোগ সড়ক। তাই সেতু আছে, আবার দুর্ভোগও আছে।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ৮৫ কিলোমিটার লম্বা লবলং খালের ওপর বানানো হয়েছে সেতুটি। এই খাল ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খিরু নদীর থেকে এসে টঙ্গীর তুরাগ নদীতে গিয়ে মিলেছে। আগে সবার পারাপারের ভরসা সাঁকো হলেও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বানানো হয় সেতুটি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফরের সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। আগে ফসলের জমির আইল দিয়ে লোকজন চলাচল করতো। কিন্তু জমিতে পানি থাকায় এখন তা অসম্ভব প্রায়।
মাওনা ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, ‘ধান খেতের আইলকে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করতো বেলতলী গ্রামের মানুষ। তবে লবলং খালের পানির স্রোত ও অতি বৃষ্টির কারণে সরু আইলের কোথাও কোথাও কোমর সমান গর্ত হয়েছে। তাই এই পথে চলাচল প্রায় বন্ধ। প্রায় তিন-চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে চলছে এই অচলাবস্থা।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জমির সঙ্গে আইল মিশে যাওয়ায় মালামাল নিয়ে তিন-চার কিলোমিটার ঘুরে গ্রামে আসতে হচ্ছে। এছাড়া আশেপাশের বিভিন্ন শিল্প কারখানার বর্জ্যে খালের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে চলাচলকারীরা চর্মসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’
ওই এলাকার গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের অনার্স (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কেয়া খাতুন বলেন, ‘পরিকল্পনা ছাড়া সেতু নির্মাণ করার ফলে সেতুটি কোনও কাজেই আসছে না। দু’বছর আগে খেতের মাঝখানের আইল দিয়ে যাওয়ার সময় কারখানা শ্রমিক রোজিনা আক্তার (১৮) পা পিছলে মারাত্মক আঘাত পেয়ে নিহত হন।’
মাওনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে একাধিকবার জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।’
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকন বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’








