গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দম্পতি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালটির অ্যাম্বুলেন্সে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে ওই দম্পতিকে আরও ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ৯ এপ্রিল টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গার মল্লিকের মাঠ এলাকার সাজ্জাদ মল্লিক (২১) এবং তার স্ত্রী খাদিজা বেগমের (১৯) করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে আইইডিসিআর থেকে জানা যায়। ওই দিনই তাদের টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ১৪ দিন তাদের চিকিৎসা করা হয়। এতে তারা সুস্থ হয়ে ওঠেন। পরে গত ১৮ ও ২০ এপ্রিল দুই বার আইইডিসিআর-এ তাদের নমুনা পাঠানো হয়, দুই বারই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ওই দম্পতিকে চার হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সুস্থ হওয়া ওই দম্পতি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; বরং নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হওয়া যায়। তারা আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলেছি। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুয়েছি। দু’ ঘণ্টা পর পর গরম পানি দিয়ে গরগল করেছি। প্রচুর পানি পান করেছি। এভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সুস্থ হয়েছি।
সাজ্জাদ মল্লিক ঢাকায় শাহিন ট্রেডার্স নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি গত ২৮ মার্চ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পাচ্চর গ্রামে শশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে গত ৪ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। ৬ এপ্রিল ওই দম্পতির নমুনা সংগ্রহ করে তা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়। গত ৯ এপ্রিল আইইডিসিআর-এর রিপোর্টে তাদের করোনা পিজিটিভ আসে। ওই দিন থেকে তাদের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।







