গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার চার উপজেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তে ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হয়েছে। করোনাভাইরাস বহন করে আসা রোগীর মাধ্যমে যাতে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা (কোভিড-১৯) এ রোগে আক্রান্ত না হন, সেই লক্ষ্যেই বুথগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে রোগীরাও নিরাপদ থাকবেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে নির্দিষ্ট ডিজাইনের পাঁচটি বুথ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং কালীগঞ্জ, কাপাসিয়া, শ্রীপুর ও কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) থেকে কালীগঞ্জে বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী রবিবার (৩ মে) থেকে সব বুথ থেকে সেবা দেওয়া শুরু হবে।
জানা যায়, কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির উদ্যোগে ১১টি, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৫টি ও শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের সহযোগীতায় দুটিসহ মোট ১৮টি বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী এবং চিকিৎসকসহ করোনাভাইরাস নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমত আরা জানান, সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমির আর্থিক সহায়তায় কাপাসিয়া উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে মোট ১১টি এবং জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ’ স্থাপন করা হবে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাতেহ আকরাম বলেন, 'জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এবং শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের পক্ষ থেকে দেওয়া দুইটির বুথের মধ্যে একটি ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এবং অপরটি রাজাবাড়ী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে।’
বুথ ব্যবহার সম্পর্কে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, 'বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করার সময় নমুনা সংগ্রহকারী অবস্থান করবেন বুথের ভিতরে। আর যার নমুনা নেওয়া হবে তিনি থাকবেন বুথের বাইরে। এতে নমুনা সংগ্রহকারী ও প্রদানকারীকে একে অন্যের সংস্পর্শে যেতে হবে না। এভাবে নমুনা সংগ্রহ করলে ঝুঁকি থাকবে না।’
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, 'শুক্রবার (১ মে) সকালে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে আউটডোর ও জরুরি বিভাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা বুথ থেকে সেবা নিতে শুরু করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'যিনি নমুনা সংগ্রহ করেন এবং যিনি দিতে যান দুজনের জন্যই কাজটা ঝুঁকিপূর্ণ। একজন টেকনিশিয়ান পিপিই পরে নমুনা নেন। প্রথম নমুনা নেওয়ার সময় সেই লোকটির যদি করোনা পজিটিভ হয়, তবে তার জীবাণুতে পিপিইটা আক্রান্ত হয়। পরে আবার অন্য একজন সুস্থ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতে গেলে তিনি সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে যাবেন। বুথের মাধ্যমে নমুনা নেওয়া হলে যিনি নমুনা নিচ্ছেন তিনি নিরাপদ, আবার যিনি দিচ্ছেন তিনিও নিরাপদ।'
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী সাদিক বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে আরও কয়েকটি বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খাইরুজ্জামান বলেন, 'আউটডোর ও জরুরি বিভাগে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা করোনাভাইরাস ‘নমুনা সংগ্রহ বুথ' থেকে সেবা নেবেন। সম্পূর্ণ কাঁচ দিয়ে ঘেরা এই বুথের মধ্যে একজন চিকিৎসক অবস্থান করবেন। সামনের সামান্য ফাঁকা জায়গা দিয়ে গ্লাভস পরিহিত ব্যক্তি হাত বের করে রোগীর রক্তচাপ নির্ণয় এবং থার্মাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করবেন। স্থাপন করা সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে চিকিৎসক ও বাইরে থাকা রোগীর মধ্যে কথোপকথন হবে। এ সময় কোনও রোগীর তাপমাত্রা করোনাভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে মিলে গেলে তাকে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে পাঠানো হবে।’








