কিশোরগঞ্জ সদরের রশিদাবাদ ইউনিয়নের লতিবপুর গ্রামে রবিবার (১০ মে) সকালে এক কিশোরকে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে জখম করে। পরে দুপুরে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে কিশোরের পক্ষের লোকজন জখমকারীদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে অন্তত ২০টি বাড়ি পুড়ে যায়। অর্ধশতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
রবিবার দুপুর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গ্রামজুড়ে তাণ্ডব চলে। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ বলছে, গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে লতিবপুর গ্রামের জুম্মন বাড়ির লোকজন পুরানবাড়ির সালেম উদ্দিনের ছেলে নূরুল হককে কুপিয়ে জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ওই কিশোরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে পুরানবাড়ির লোকজন ও তাদের কয়েকশ' সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। লুট করে সবকিছু। এ সময় হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা পালিয়ে গেছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আনোয়ার জানান, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকার দু'টি পক্ষের মধ্যে বহুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রবিবার সকালে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যালে পাঠানো হয়। পরে দুপুরের দিকে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে জুম্মন বাড়ির লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকায় যেন নতুন করে হানাহানি না হয়, সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) সকালে এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ওই কিশোর ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।








