করোনাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া ও সিংগাইর উপজেলাকে ফের লকডাউন করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত জেলা কমিটির প্রধান ও জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল এই তিন উপজেলাসহ মানিকগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সরকারি আদেশে গত ৩১ মে থেকে লকডাউন শিথিল করলে দোকানপাট, অফিস আদালত ও গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকে মানিকগঞ্জে করোনা শনাক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জনসংখ্যা অনুপাতে আক্রান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া এবং সিংগাইর উপজেলাকে হটস্পট ধরা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, 'করোনা প্রতিরোধে গঠিত জেলা কমিটির সদস্যদের মতামত এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।'
গণবিজ্ঞপ্তিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ বাইরে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এতে আরও বলা হয়, শপিং মল, দোকানপাট ও কাঁচাবাজার স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনপূর্বক খোলা রাখা যাবে। তবে অবশ্যই তা বিকাল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া জেলার বাইরে যাওয়া যাবে না এবং অন্য জেলা থেকে এই জেলার অভ্যন্তরে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। যৌক্তিক কারণে জেলার বাইরে থেকে আগত ব্যক্তিদের অবশ্যই নিজ ঘরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
গত সোমবার করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌসের আহ্বানে তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দসহ
কমিটির সদস্যরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা মানিকগঞ্জের অব্যাহত করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কঠোরভাবে লকডাউন পালনের সিদ্ধান্ত উপনিত হন।
সরকারি হিসাব মতে, জেলা থেকে এ পর্যন্ত চার হাজার ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৭১৬টির রিপোর্ট পাওয়া গেছে। যাতে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৩৮৭টি। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ১১০ জন, সিংগাইরে ৭৬ জন, সাটুরিয়ায় ৭৪ জন, ঘিওরে ৫২ জন, হরিরামপুরে ৩৩ জন, শিবালয়ে ২৭ জন এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১১ জন রয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩২ জন। নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ২৪৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ১০৪ জন এবং মারা গেছেন তিন জন।








