পদ্মা-যমুনায় পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নেই মানিকগঞ্জে

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
২০ জুলাই ২০২০, ১৯:১৪আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ১৯:২৩

বন্যাকবলিত এলাকা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জেলার পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি কমেনি। জেলার হরিরামপুর, দৌলতপুর, শিবালয়, ঘিওর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তলিয়ে আছে বেশ কিছু রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সামগ্রীর অভাবে রয়েছেন এসব এলাকার লোকজন।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলার ২৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ১৩ হাজার ৫৩৯ হেক্টর ফসলি জমি। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯২৪টি পরিবার। আর পানিবন্দি রয়েছে সাত হাজার ২৮৬ জন মানুষ।

বন্যাকবলিত এলাকা সূত্র মতে, দৌলতপুরে যমুনা নদীর ভাঙনে দুই হাজার ৩৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া শিবালয় উপজেলায় যমুনার ভাঙনে এক হাজার ৭৫০ মিটার, সাটুরিয়ায় ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে এক হাজার একশ’ মিটার, হরিরামপুরে পদ্মার ভাঙনে নদী তীরবর্তী ৫৯৫ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে, ঘিওর উপজেলায় কালীগঙ্গা নদীর ভাঙনে দুইশ’ মিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

তবে সরেজমিনে বন্যার চিত্র আরও ভয়াবহ বলে দাবি স্থানীয়দের। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দৌলতপুর, হরিরামপুর এবং শিবালয় উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বাসিন্দা। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার বেশির ভাগ রাস্তাঘাট। পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ দৌলতপুর উপজেলার বন্যাকবলিত জিয়নপুর, চরকাটারি, বাঘুটিয়া ও বাচামারা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, বন্যায় তলিয়ে গেছে অধিকাংশ রাস্তাঘাট। ঘর, ঘরবাড়ির উঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব এবং দরিদ্র মানুষ খাদ্যাভাবে রয়েছে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা।

হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মার পানিতে ডুবে গেছে উপজেলা পরিষদে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা। উপজেলা পরিষদ চত্বরে বন্যার পানি। চরাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ঘর থেকে বেরোলেই প্রয়োজন নৌকার।’ এসব এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বন্যাকবলিত এলাকা মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পানি বিজ্ঞান শাখা ) পানি পরিমাপক মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত যমুনা নদীতে ১০ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ইতোমধ্যে ১৩০ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও শিশুখাদ্য এবং গো-খাদ্যের জন্যও নগদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।’

 

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী