গাজীপুরের শ্রীপুরে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভেদে ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখন মাঠে। ফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.শহিদুল্লাহ শহীদ রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে নেতাকর্মীদের অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। আওয়ামী লীগ সমর্থক ও শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের (ছাত্রলীগ মনোনীত) প্রথম ভিপি স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আহসান উল্লাহ নেতাকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়াই ভালো অবস্থানে আছে। তবে তাকে নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী এবং দুইবারের নির্বাচিত মেয়র হয়েও আনিছুর রহমান অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। আর এ কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শ্রীপুরের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন শ্রীপুরের সচেতন মহল।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা এসএম রুহুল আমীন, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক এবং শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান সম্প্রতি নির্বাচনি পরামর্শ সভার মাধ্যমে সব ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে দলের তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দলের নেতাকর্মীদের বিরুপ মন্তব্যের ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী সম্মানজনক অবস্থানে থাকবে কিনা তা নিয়েও ভোটার ও পৌরবাসীর মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভালো লোক হিসেবে পরিচিত। তবে দলীয় অনৈক্যের কারণে ফলাফল কি হবে তা বলা যাচ্ছে না।
শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান বলেন, মনোনয়নকে ঘিরে মতবিরোধ থাকতেই পারে। নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে, মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের অব্যাহত প্রচারণা জমে উঠলেও পৌরবাসী ও ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্য। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধের কারণে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী মামলায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া নেতৃত্বদানকারী প্রতিটি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০-১২টি করে মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিক নেতাকর্মী বিভিন্ন সময় আটক হলেও অন্যরা পালিয়ে বেড়িয়েছেন। এরইমধ্যে সব মামলায় এসব নেতাকর্মী জামিন পেলেও চার্জশিট হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী শহীদুল্লাহ শহীদকে নিয়ে কোনও মতভেদ না থাকায় এবং প্রতীক ধানের শীষ হওয়ায় মামলা ও গ্রেফতার আশঙ্কার কথা ভুলে গেছে নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা পৌর এলাকার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে ধানের শীষের ভোট প্রার্থনা করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সব স্তরের নেতাকর্মী।
এ ব্যপারে বিএনপি প্রার্থীর কেন্দ্র কমিটির আহ্বায়ক এবং শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধানের শীষের নির্বাচন। তাই মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে ঘরে বসে থাকার সময় নেই।
গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বেপারি বলেন, এখনও অনেক নেতাকর্মী হুলিয়া নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারপরও গ্রেফতার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তারা নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।
/জেবি/এএইচ/








