মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকর্মীর ছেলের হাতে কর্তব্যরত সিনিয়র নার্স (ব্রাদার) শাহিনুর রহমান মারধরের ঘটনায় বদলি করা হলো অভিযুক্ত সহকারী নার্স আব্দুল মোতালেব মিয়াকে। জানা গেছে, প্রায় ২৮ বছর ধরে সদর হাসপাতালে রয়েছেন মোতালেব মিয়া। তিনি সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে আধিপত্য বিস্তার করেন। নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতেন না। উল্টো রোগীদের ফুসলিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করতেন। এতে প্রতিবাদ করলে হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করতেন মোতালেব।
এ ঘটনা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে ‘বাবার সঙ্গে বাদানুবাদ, সহকর্মী নার্সের ওপর ছেলের হামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে মোতালেব মিয়াকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে আদেশে উল্লেখ করা হয়, তাকে প্রশাসনিক কারণে বদলি করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে বদলি করা হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাকে কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তিনি তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ড রিলিজড বলে গণ্য হবেন।
১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী জ্যেষ্ঠ নার্স শাহিনুর রহমান মোতালেব মিয়া ও তার ছেলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের কর্মী দিহান তন্ময়সহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এজাহার থেকে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জ্যেষ্ঠ নার্স শাহিনুর রহমানের সঙ্গে মোতালেব মিয়ার বাগবিতণ্ডা হয়। এসময় মোতালেব ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিনুরকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর মোতালেব মুঠোফোনে তার ছেলে ছাত্রলীগের কর্মী দিহান তন্ময়কে সহযোগীদের নিয়ে হাসপাতালে আসতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর দিহান সঙ্গীদের নিয়ে হাসপাতালে এসে জরুরি বিভাগে কর্মরত শাহিনুরকে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পেটান। এরপর তন্ময় শাহিনুর পকেট থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টুটুল উদ্দিন বলেন, আসামি মোতালেব এবং তার ছেলে তন্ময় আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।







