নরসিংদীর বেলাবতে ছিনতাই করার সময় ছিনতাইকারীকে চিনে ফেলায় রাতভর নির্যাতনের পর মো. ইমন মিয়া (১২) নামে এক কিশোরকে রড ও বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় রবিবার (৮ নভেম্বর) নিহতের মামা শাহআলম মিয়া বাদী হয়ে বেলাব থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ওই কিশোরের মৃত্যু ঘটে। নিহত মো. ইমন মিয়া উপজেলার কুকুরমারা গ্রামের মৃত কাজল মিয়ার ছেলে। শৈশবে ইমনের বাবা মারা যাওয়ায় একই ইউনিয়নের পাতিলাধোয়া গ্রামে নানা চাঁন মিয়ার বাড়িতে থাকতো।
নিহত ইমনের পরিবার জানায়, গত শুক্রবার রাত ১০টায় ইমন মিয়া তার বন্ধু পাতিলাধোয়া গ্রামের হুমায়ুনের ছেলে মোস্তাকিনকে নিয়ে নারায়ণপুর বাজার হতে নানার বাড়িতে ফিরছিল। পথে গোবিন্দপুর শাহপাড়া গ্রামে পৌঁছলে গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত খোকন মিয়ার বখাটে ছেলে সালাউদ্দীন, অহিদ মিয়ার ছেলে আলামিন, আমিন চাঁনের ছেলে মো. হৃদয়, গোলাপ মিয়ার ছেলে সাত্তারসহ কয়েকজন বখাটে রাতের আঁধারে তাদের গতিরোধ করে। এ সময় তারা ইমন ও তার বন্ধুর নিকট থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ দুই হাজার দুইশ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ সময় ইমন তাদেরকে চিনে ফেলার কথা বললে ছিনতাইকারীরা ডাকাত অপবাদ দিয়ে কিশোর ইমন ও মোস্তাকিনকে হাত পা বেঁধে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে পা ভেঙে ফেলে। বখাটেরা হাতপ্লাস দিয়ে নিহত ইমনের হাতের আঙুলের নখ উপড়ে ফেলে রাতভর নির্যাতন করে। পরদিন শনিবার সকালে খবর পেয়ে মোস্তাকিনের বাবা হুমায়ুন দুই কিশোরকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কিশোর ইমনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী ও নিহত ইমনের মামা মো. শাহআলম বলেন, নারায়ণপুর বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে ছিনতাই করার সময় গোবিন্দপুর গ্রামের বখাটে ছিনতাইকারী সালাউদ্দীন ও তার বন্ধুদের চিনে ফেলায় তারা আমার ভাগিনা ইমনসহ তার বন্ধু মোস্তাকিনকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমনের মৃত্যু হয়। আমি এ হত্যার বিচার চাই।
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাফায়েত হেসেন পলাশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








