নরসিংদীর রায়পুরায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি রায়পুরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুল হক চৌধুরী শাকিলকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রলীগ। তবে ধর্ষণের ঘটনার ২২দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ।
মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার। তবে শাকিলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির।
ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুল হক চৌধুরী শাকিল রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আমিনুল হক চৌধুরীর ছেলে।
ওই স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের ৬ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। বিয়ে করার কথা বলে গত ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে ডেকে রায়পুরা পৌর এলাকার শ্রীরামপুরস্থ সরকারি রাজু অডিটোরিয়ামে নিয়ে যায় শাকিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে বিয়ের কথা বলে আবারও বাড়ি থেকে ওই অডিটোরিয়ামে ডেকে আনেন ছাত্রীটিকে। পরে সেখানে অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার সুমনের সহায়তায় ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল। এ সময় স্থানীয়রা ঘটনা টের পেয়ে অডিটোরিয়াম ঘেরাও করলে শাকিল ওই ছাত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে।
পরদিন ২৩ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে নির্যাতিতা ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। শুক্রবার দুপুরেই নির্যাতিতা ছাত্রী বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বহিষ্কারের বিষয়ে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুল হাসান মিন্টু বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে রায়পুরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুল হক চৌধুরী শাকিলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমটিরি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করে একজনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
রায়পুরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, সভাপতি শাকিলকে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিঠি ইস্যু করে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রায়পুরায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে বহিষ্কার আদেশের ঘোষণা দেবেন।
নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা নুরুল হক বলেন, এখনও আসামি শাকিলকে ধরতে পারেনি পুলিশ। বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, এ ঘটনায় অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা শাকিলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।








