ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের মাঝকান্দির দাসপাড়া গ্রামের রাজু সাহা (২২) হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তাদের নির্মাণাধীন ভবনের রাজমিস্ত্রি জসিম মোল্যা (২১) রাজুকে হত্যা করে মিস্ত্রিদের জন্য নির্মিত টয়লেটের ট্যাংকির মধ্যে ফেলে দেয়। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা।
এদিকে রাজু সাহা’র মৃত্যুর পর আড়পাড়া গ্রামের এক মুসলিম তরুণী (২০) দাবি করেছেন রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। তাদের ছয়মাস বয়সী একটি সন্তানও আছে। এ প্রেক্ষাপটে ময়না তদন্তের পর রাজুর মৃতদেহ কার হাতে তুলে দেওয়া হবে এ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজু সাহা এবং রাজমিস্ত্রি জসীম দুইজনই ওই এলাকার এক তরুণীকে ভালোবাসতেন। পাশাপাশি জসীমের স্ত্রী আট মাসের সন্তানসম্ভবা। এ সময় তার অনেক টাকা প্রয়োজন। এ দুটি কারণে জসীম হত্যা করে রাজুকে। হত্যার পর রাজুর হাতের দুটি আংটি, একটি ব্রেসলেট ও দুটি মুঠোফোন হাতিয়ে নেয় জসীম। জসীমকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হলে তিনি পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেন।
জসীমের বাড়ি রাজবাড়ির বালিয়াকান্দি উপজেলার বামুন্দি গ্রামে। মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদি চরপাড়া হতে পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে। এসময় তার দেখানো তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রডসহ নিহতের দুটি সোনার আংটি, একটি ব্রেসলেট ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, জসীম রাজুদের নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। সেই সুবাদে সে রাতের বেলায় ওই ভবনেই থাকতো। আর রাজুর মা অরুণা রানী সাহা ও বোন তৃষা রাণী সাহা কিছু দূরে একটি বাসায় থাকতেন। গত শনিবার দিবাগত রাতে রাজু জসীমের সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবনে রাত কাটান। ওই রাতে জসীম তাকে লোহার রড দিয়ে হত্যা করে পরে টয়লেটের ট্যাংকির মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।
এদিকে নিহত রাজুকে স্বামী দাবি করে তাকে মুসলিম রীতিতে দাফনের জন্য পুলিশের নিকট আবেদন করেছে ৬ মাসের শিশু সন্তানের মা জাকিয়া খান (২০)। তার দাবি ঢাকার সিএমএম কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৫ জুন রাজু ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। রাজু সাহা হতে নিজের নাম পরিবর্তন করে মাহমুদ আহমেদ রাখেন। ওই বছরের ৭ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। ৬ মাসের শিশু সন্তানটিও তাদের। জাকিয়ার দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্যে মধুখালী থানার একজন কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জাকিয়ার বাড়ি মধুখালির আড়পাড়া গ্রামে। পিতার নাম জাকির খান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, রাজু ধর্মান্তরিত হয়েছিল কিনা এবং জাকিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের করার পর রাজুর লাশ হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, রাজুর ধর্মান্তরিত ও বিয়ের বিষয়টি তার পরিবার অবগত নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজুর লাশ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত রাজুর মা অনিমা রানী সাহা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গত সোমবার মধুখালী তানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জসীমকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।









