দুই বছরেও শেষ হয়নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০১৬-১৭ সেশনের (৪৬তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালর শেষ দিকে তৃতীয় বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন শুরু হয় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে। এরই মধ্যে অধিকাংশ বিভাগের কার্যক্রম শেষ হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। আবার কিছু বিভাগর চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন দিলেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গত বছরের মার্চ থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউটের মধ্যে তৃতীয় বর্ষের কোর্স শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয় ১১টি বিভাগের। এর মধ্যে রয়েছে ইতিহাস, বাংলা, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন, লোকপ্রশাসন, নৃ-বিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, গণিত, পরিবেশ বিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ। এছাড়া পাঁচটি বিভাগ তাদের কোর্স শেষ করে চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে। বিভাগগুলো হলো সরকার ও রাজনীতি, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, আইন ও বিচার, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি।
অন্যদিকে ছয়টি বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট তাদের তৃতীয় বর্ষের কোর্স সম্পন্ন করেছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রাণিবিদ্যা, অর্থনীতি, ভূগোল ও পরিবেশ, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশনস সিস্টেমস, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ম্যানেজম্যান্ট স্টাডিজ বিভাগ।
এদিকে দর্শন বিভাগ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব, ইংরজি, প্রত্নতত্ত্বসহ বেশ কিছু বিভাগের তৃতীয় বর্ষের কোর্স এখনও শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইআইটি বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানভীর কল্লোল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে আমাদের (৩য় বর্ষ) পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। অথচ করোনাকালে চতুর্থ বর্ষের (৪৫তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হলেও তৃতীয় বর্ষের (৪৬তম ব্যাচ) এখনও পরীক্ষা শুরু হয়নি। তাই, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইনে পরীক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (৪৬তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিরা স্নাতক শেষ পর্যায়ে হলেও আমরা এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি। যেহেতু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়, তাই আমরা দ্রুত অনলাইনের মাধ্যমে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে একই বর্ষে পড়াশোনা করেছে এরকম অনেকেই চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে। অথচ আমরা এখনও তৃতীয় বর্ষ শেষ করতে পারিনি। এদিক দিয়েও আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’
দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (৪৬তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলন, ‘শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী এতদিন আমাদের স্নাতক শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও তৃতীয় বর্ষের কোর্সই শেষ হয়নি। ফলে আমাদের সেশনের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিরা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে বিভাগগুলো তাদের পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমতির অপেক্ষায় আছেন তারা। এ বিষয়ে একাধিক বিভাগের সভাপতি জানান, পরীক্ষা নিতে কোনও সমস্যা নেই। তবে এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। তা ছাড়া পরীক্ষাগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চতুর্থ বর্ষের (৪৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়া শেষ হয়েছে। এখন অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়েও চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।








