পৌরসভায় সরকারি দলের মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান সবুজ। তবে শনিবার গণসংযোগ চালানোর সময় বিকাল পাঁচটার দিকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যায় দিকে কালকিনি থানা ঘেরাও করেন তার কয়েক হাজার সমর্থক। পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদসহ যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা সেখানে এলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ এসময় লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়লে অন্তত অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
সরকারদলীয় মনোনয়ন না পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মসিউর রহমান সবুজ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। পুলিশ দাবি করেছে, মশিউর ঢাকায় গেছেন। তবে তার সমর্থকদের দাবি, তাদের সামন থেকেই কালকিনি থানার ওসি তাদের প্রার্থী সবুজকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, বিকেল পাঁচটার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার পালপাড়ায় সমর্থকসহ গণসংযোগ করছিলেন নারকেলগাছ প্রতীকের প্রার্থী মসিউর রহমান। এসময় কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিরউদ্দিন মৃধা সেখানে আসেন এবং তাকে ডেকে কথা বলার নাম করে তাকে পুলিশের সরকারি গাড়িতে উঠতে বাধ্য করেন। সেখান থেকে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন এই প্রার্থী।
ওসি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, তিনি সবুজকে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে আসেননি। বরং সবুজ নিজে তাকে ঢাকা যাওয়ার কথা বলেন এবং তার গাড়িতে করে মাদারীপুরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ কারণে তাকে মাদারীপুর পৌঁছে দেন তিনি। এরপর সবুজ কোথায় গেছেন তা তিনি জানেন না।
তবে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা অস্বীকার করে সমর্থকরা বলেন, ‘একসঙ্গে নির্বাচনি গণসংযোগ করছিলাম আমরা। তিনি কোথাও গেলে আমাদের জানিয়ে যেতেন। আমরা দেখেছি ওসি নাছির এসে তাকে কথা বলার জন্য ডেকে নিয়ে গাড়িতে তোলেন। এরপর থেকে সবুজ ভাইয়ের ফোন বন্ধ। আমরা এখনই তাকে ফেরত চাই।’
সরকারদরীয় প্রার্থীর নির্দেশে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
নিখোঁজ প্রার্থীর চাচাতো ভাই রমিজ হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার ভাই নির্বাচন রেখে ঢাকায় কেন যাবে? গেলে কি আমরা জানতাম না? আর সেটা পুলিশের গাড়িতে চড়ে কেন? এখানে পুলিশ সুপার অর্থের বিনিময়ে নৌকার পক্ষ নিয়ে ষড়যন্ত্র করতেই আমার ভাইকে গুম করার চেষ্টা করছেন।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
এদিকে সবুজের সমর্থকরা ঘটনার পরপরই প্রথমে থানা ঘেরাও করে। এরপর শহরের কয়েকটি সড়ক অবরোধ করে। সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করে। এরপর নৌকার কিছু সমর্থক সেখানে এলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ ঘটে। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে উভয়পক্ষে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
পুলিশ রাবার পুলিশ নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছে। জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ও র্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে ওই প্রার্থী বাড়িতে ফিরেছেন কিনা সে তথ্য এখনও জানা যায়নি।









