সোলাইমান ব্যাপারী ও সালমা বেগম। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে লকডাউন শুরু হওয়ায় দ্রুত বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল। আছরের নামাজের পরপরই নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চড়েন ‘সাবিত আল হাসান’ লঞ্চে। কিন্তু সেই লঞ্চ আর গন্তব্যে পৌঁছেনি। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গেই তলিয়েছেন শীতলক্ষ্যার জলে।
কথাগুলো বলছিলেন নিহতের ছোট মেয়ের স্বামী। কান্না ভেজা কণ্ঠে ঠিকমত কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। সম্পর্কে তার শ্বশুর-শাশুড়ি হলেও মা বাবার মতই আদর পেতেন তিনি। স্ত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন নি। কারণ সে যদি নদীর তীরে এসে লাশ দেখে তাহলে হয়তো জ্ঞান নিয়ে বাড়ি ফিরবে না। কিন্তু লাশ দেখে নিহতের মেয়ের জামাই নিজেই দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। বার বার বলছেন ‘দুই জনের মাঝে একটু বসমু, দুইজনরে একটু ধরতে দে আমারে’।
তার সঙ্গে এসেছেন প্রতিবেশী রফিকুল। তিনি জানান, সোলাইমান ব্যাপারীর বয়স ৬০ বছর। তার স্ত্রীর বয়স ৫০ এর বেশি। তার ৫ মেয়ে ২ ছেলে। দুই ছেলেই ফ্রান্স প্রবাসী। করোনার কারণে দেশে ফেরাও তাদের সম্ভব না। মা-বাবার মরদেহ ছুঁয়ে দেখার ভাগ্যটিও হারিয়েছেন তারা। ৫ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। করোনার কারণে সব বন্ধ হয়ে যাবে শুনে সকালে ডাক্তার দেখাতে আসে নারায়ণগঞ্জ শহরে। বিকালে ফেরার পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
নিহতের মেয়ের জামাই বিলাপ করতে করতে ক্ষোভ জানিয়ে বলতে থাকেন, এই বাল্কহেড গুলারে কেউ শাস্তি দেয়? এত মানুষ মরে তাও ওগোরে কেউ কিছু কয় না।
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকালে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সাবিত আল হাসান’ নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে যাত্রীবাহী লঞ্চটি কয়লাঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুর নিচে এলে এসকে-৩ নামের একটি কোস্টার জাহাজ তাকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও নৌ বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে ১৯ ঘণ্টা পর শেষ হয়েছে উদ্ধার অভিযান। অভিযানে ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করে তারা। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে প্রাথমিক অনুদান প্রদান করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।









