নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় রবিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় লঞ্চডুবির পর জেলা প্রশাসকের কাছে এ ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন এমন ৩৫ জনের তালিকা দেওয়া হয়। সোমবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন লঞ্চডুবিতে মৃত সুনিতা সাহার ছেলে অনিক সাহা (১২), মধ্য কোন্ডাগাঁও এলাকার মতিউর রহমান কাজীর ছেলে ইউসুফ কাজী, ঢাকা মিরপুর-১১ এর বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার, টুঙ্গিবাড়ি বেতকা এলাকার মুছা শেখের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫), মুন্সীগঞ্জ সদরের দক্ষিণ ইসলামপুরের মো. নুরুল আমিনের ছেলে মো. তানভীর হোসেন হৃদয়, মালপাড়া এলাকার সিরাজের ছেলে রিজভী (২০)
রবিবার সন্ধ্যায় জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ওই দিন রাতে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে তারা। সোমবার দুপুরে লঞ্চটি ক্রেন দিয়ে নদী থেকে তোলার পর আরও ২২ জনের লাশ উদ্ধার হয়। বিকালে আরও দুজনের লাশ নদীতে ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মোট ২৯ জনের লাশ উদ্ধার হলো।
মৃত ২৯ জন হলেন—মুন্সীগঞ্জ সদরের নুড়াইতলী এলাকার মুখলেছের মেয়ে রুনা আক্তার (২৪), মেল্লাহকান্দি চৌদ্দমোড়া এলাকার সমর আলী বেপারীর পুত্র সোলেমান বেপারী (৬০) ও তার স্ত্রী বেবী বেগম (৫৫), মালপাড়া এলাকার হারাধন সাহার স্ত্রী সুনিতা সাহা (৪০) ও তার ছেলে বিকাশ সাহা (২২), উত্তর চরমসুরা এলাকার অলিউল্লাহর স্ত্রী পখিনা (৪৫), একই এলাকার আরিফের স্ত্রী বিথি (১৮) ও তার মেয়ে আরিফা (১), মুন্সীগঞ্জ সদরের প্রীতিময় শর্মার স্ত্রী প্রতিমা শর্মা (৫০), মোল্লাকান্দি চরকিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন (৯০) ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬৫), উজিরপুরের খায়রুল হাওলাদারের পুত্র হাফিজুর রহমান (২৪) এবং তার স্ত্রী তাহমিনা (২০) ও পুত্র আব্দুলাহ (১), দক্ষিণ কেওয়ার দেবীন্দ্র চন্দ্র দাসের পুত্র নারায়ণ দাস (৬৫) ও তার স্ত্রী পার্বতী রানী দাস (৪৫), বন্দরের কামরুজ্জামানের শিশু পুত্র আজমীর (২), মুন্সিগঞ্জ সদরের রিকাবিবাজার নূরপুর এলাকার মুশকে আলম মৃধার পুত্র শাহআলম মৃধা (৫৫), রতন পাতর এর স্ত্রী মহারানী (৩৭), ঢাকা শনিরআখড়া এলাকার রশিদ হাওলাদারের পুত্র আনোয়ার হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৩০), মাকসুদার মেয়ে মানসুরা (৭), নোয়াগাঁও পূর্বপাড়া এলাকার মিঠুনের স্ত্রী ছাউদা আক্তার লতা (১৮), লতার বোন সাদিয়া (১১), নড়িয়া শরিয়তপুর জেলার মৃত নুরনবী শেখ এর ছেলে আব্দুল খালেক((৭০), বরিশালের স্বরূপকাঠি এলাকার খাদিজা বেগম (৫০), ঝালকাঠির কাঠলিয়া এলাকার জিবু (১৩), বন্দরের সেলসারদী এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে মো. নয়ন (২৯) এবং দোলা বেগম (৩৪)।
এর আগে রবিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় এসকে-৩ নামের একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এমভি সাবিত আল হাসান নামের ওই লঞ্চটি ডুবে যায়। এ সময় ২০ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠে ওঠেন। লঞ্চটিতে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানান তারা।
আরও পড়ুন...
ছোট ভাইয়ের লাশটাও পেলেন না রোকসানা!
২৭ মরদেহ উদ্ধারের পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা
শীতলক্ষ্যায় ডুবে যাওয়া লঞ্চে মিললো আরও ১৯ মরদেহ
ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ৫ নারীর লাশ উদ্ধার
শীতলক্ষ্যায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবি









