বিশ্ব ইজতেমা শুরু আজ

রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
০৮ জানুয়ারি ২০১৬, ০৬:২৪আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৬, ০৬:২৪

বিশ্ব ইজতেমা শুরু আজ ফজর নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ইতোমধ্যে দেশের ১৭টি জেলার বেশিরভাগ জামাতবন্দি মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছেছেন। হরতালের মধ্যেও রাজধানী এবং আশপাশের এলাকায় প্রচণ্ড যানজট কাটিয়ে মুসল্লিদের ইজতেমা ময়দানে আসতে হচ্ছে।
মাদারীপুর জেলা সদরের আল আমীন মসজিদ থেকে জামাতবন্দী হয়েছেন স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষক সফিকুর রহমান। তিনি জানান, বুধবার রাতে ইজতেমা মাঠে পৌঁছান তারা। সকাল ১১টায় ইজতেমা ময়দান থেকে ঢাকার নয়াবাজার যান রান্নার বড় চুলাসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে। টঙ্গী থেকে বাসে উঠে নয়াবাজার পৌঁছতে তার সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা। হরতালের মধ্যেও প্রচণ্ড যানজটের মধ্যে পড়তে হয়েছে।
ইজতেমা ময়দানের ২১ নং খিত্তার অপর মুসল্লি গোলাম সাকলায়েন বলেন, ইজতেমাস্থলে আসার জন্য হরতাল আমাদের বাধা হতে পারেনি। আল্লাহর রাস্তায় বের হলে আল্লাহই পার করে নেন। লাখো লাখো মানুষ আসছেন বাধাহীনভাবেই।
এবারের বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শীত ও হরতাল উপেক্ষা করে বাস-ট্রাক, কার-পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দলে দলে মুসল্লিরা ইতোমধ্যে টঙ্গীর ইজতেমাস্থলে আসছেন। তারা কাঁধে-পিঠে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে ইজতেমাস্থলে এসে নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। অবশ্য গত কয়েকদিন থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা এসে ময়দানের খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

টঙ্গীর ইজতেমাস্থল এখন মুসল্লিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে। প্রথম দিন শুক্রবার বাদ ফজর আনুষ্ঠানিক আম বয়ানের মাধ্যমে তাবলিগের বুজুর্গ মুরব্বিরা এর সূচনা করার কথা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারই ইজতেমার বিশাল ময়দানে লাখো মুসল্লি জমায়েত হওয়ায় বাদ মাগরিব থেকেই মুসল্লিদের মাঝে হেদায়েতী বয়ান শুরু হয়েছে।

এবারের ইজতেমার আগের দিন বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা বৃহস্পতিবারের হরতাল ইজতেমার উদ্দেশ্যে আসতে থাকা মুসল্লিদের উপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পথে দুর্ভোগ থাকা সত্ত্বেও সকল বাধা উপেক্ষা করে তাবলিগ অনুসারী মুসল্লিরা গাড়িতে চড়ে ও পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে আসছেন। তবে ইজতেমার আগের দিন জামায়াতের এমন কর্মসূচির কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা। সাধারণ মানুষজনও এমন কর্মসূচির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইজতেমায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ যোগ দিয়ে থাকেন। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধের মধ্য দিয়েও নানা দুর্ভোগের শিকার হয়ে গত বছরের ইজতেমায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তারা এখানে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শুনেন এবং ইসলামের দাওয়াতী কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হন। এখান থেকেই দ্বীনের দাওয়াতি কাজে বেরিয়ে যান। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের তাবলিগ অনুসারীরা মিলিত হন ইজতেমায়।

বিদেশি মুসল্লিদের জন্য মাঠের পশ্চিম-উত্তর কোণে গড়ে তোলা হয়েছে বিদেশি মেহমানদের (মুসল্লি) আবাসন ব্যবস্থা। সেখানে বিদ্যুত, টেলিফোন, গ্যাস সংযোগসহ রয়েছে আধুনিক সুবিধাদি। বিদেশি নিবাসের রন্ধনশালায় রয়েছে তাদের আপ্যায়নের নানা আয়োজন। বিদেশি মেহমান খানার জিম্মাদার জানান, ইতোমধ্যেই বহু বিদেশি মেহমান ইজতেমা ময়দানে এসে পৌছেছেন। অনেকে পথে রয়েছেন। তবে মঙ্গলবার থেকে বিদেশি মেহমানরা আসতে শুরু করেছেন। আখেরি মোনাজাতের দিন পর্যন্ত তাদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। এখানে ইংলিশ, আরব, অনারবদের জন্য আলাদা আলাদা তাঁবু ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের পছন্দমাফিক খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে। সকালের নাস্তায় স্যুপ, হালুয়া, ডিম, রুটি, মধু, খেজুর, জয়তুনের তেল, ডিমের তৈরি বিশেষ খাবার ‘শুকশুকি’ প্রভৃতি দুপুর ও রাতে পোলাও মাংস, বিরিয়ানি, সাদা ভাত, মাছ, রুটিসহ বিভিন্ন খাবার রান্না ও সরবরাহ করা হয়। সেখানে নানা ধরনের খাবার রান্নার জন্য ২ শতাধিক বাবুর্চি ছাড়াও শুধু তুন্দুর রুটি বানানোর জন্য কাকরাইল মাদ্রাসার দেড়’শর মতো শিক্ষার্থীও যোগ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, থাইল্যাণ্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মুসল্লিরা রুটি, মাংস ছাড়াও সাদা ভাত-মাছ খেতে পছন্দ করেন। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বাণী দিয়েছেন।

বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ইজতেমার মূল ছয় দিনের প্রতিদিন এখানে প্রায় ৪ টন গরু, ৫ টনের মতো মুরগী ও ১ টনের মতো খাসির মাংস, প্রায় ৫ টন মাছ ও ৪ টন সবজির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন তুন্দুর রুটি লাগে ২০ হাজারের মতো। ইজতেমার মাঠের প্রস্তুতির কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বী গিয়াস উদ্দিন জানান, সব কাজ করা হয় মোশায়ারার (পরামর্শ) মাধ্যমে। এ বছর বাইরের প্রায় ৩০-৪০টি দেশ থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি ইজতেমায় যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা খিত্তাওয়ারি যেভাবে অবস্থান নেবেন:

দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন ১৫টি জেলাসহ ঢাকা জেলার বাকী অংশের তাবলিগ অনুসারী মুসল্লিরা। ওইসব জেলা ও খিত্তাগুলো হলো- ঝিনাইদহ ৮ নং খিত্তায়, জামালপুর ৯ ও ১১ নং খিত্তায়, ফরিদপুর ১০ নং খিত্তায়, নেত্রকোনা ১২ ও ১৩ নং খিত্তায়, নরসিংদী ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায়, কুমিল্লা ১৬ ও ১৮ নং খিত্তায়, কুড়িগ্রাম ১৭ নং খিত্তায়, রাজশাহী ১৯ ও ২০ নং খিত্তায়, ফেনী ২১ নং খিত্তায়, ঠাকুরগাঁও ২২ নং খিত্তায়, সুনামগঞ্জ ২৩ নং খিত্তায়, বগুড়া ২৪ ও ২৫ নং খিত্তায়, খুলনা ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায়, চুয়াডাঙ্গা ২৮ নং খিত্তায় এবং পিরোজপুর ২৯ নং খিত্তায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে ৫ স্তরে ১২ হাজার পুলিশ সদস্য ২৪ ঘণ্টা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত সদস্য নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি ও রেলমন্ত্রী মজিবুল হক এমপি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম আলম, হামর্দদ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ এর চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খাঁন, গাজীপুর পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এড. আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান খান কিরণ, গাজীপুর সির্ভিল সার্জন মো. আলী হায়দার, পরিচালক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল মাহবুবুল আলম চৌধুরী (অব), সহকারী পরিচালক আব্দুল হক, ওয়াকফ প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ ভূইয়া, বাংলাদেশের চিফ মোতাওয়াল্লী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূইয়া, টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এমএ লতিফ প্রমুখ।

এবারের ইজতেমা উপলক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন যেসকল কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন এগুলোর মধ্যে-৫টি কন্ট্রোল রুম নির্মাণ (সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি), ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশি মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে ৮টি তোরণ নির্মাণ, ইজতেমার নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টিসহ মোট ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, ইজতেমায় নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের জন্য ১৫০টি অস্থায়ী টয়লেট নিমাণ, ২০টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম গ্রহণ, ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ৭০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা, ইজতেমা চলাকালীন সময় ২০টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করণ, কন্ট্রোল রুম সমূহ ও অন্যান্য অস্থায়ী ভাবে খুটি স্থাপনের মাধ্যমে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করণ, তুরাগ নদীতে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রীজ ও কামারপাড়া ব্রীজের নীচে দুই পার্শ্বে বাঁশ দ্বারা ২টি বেষ্টনী নির্মাণ, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত দুই পার্শ্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তায় পার্কিং করা গাড়ী সমূহ অপসারণ, ধূলাবালী নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, রাস্তার দুই পাশে দেয়ালের অশ্লীল পোষ্টার অপসারণ ও সিনেমা হল সমূহ সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যবস্থা করণ, বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬টি টেলিফোন লাইন ও ২টি হট লাইন স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কন্ট্রোল রুমের সামনে ৫৪টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত বিদেশি মেহমানদের রান্নার কাজের জন্য ১২৫টি গ্যাসের চুলা স্থাপন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর ব্যবস্থা গ্রহণ, ৫১তম বিশ্ব ইজতেমা ২০১৬ ১ম ধাপে ২৭টি খিত্তা এবং ২য় ধাপে ২৯টি খিত্তা স্থাপন করা এবং দেশের ৩২টি জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করবেন, ১২টি উৎপাদক নলকূপ দ্বারা ১১ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ঘণ্টায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করণ ইত্যাদি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ (শুক্রবার) ভোর রাত থেকে ১২হাজার পুলিশ সদস্য ২৪ঘণ্টা মুসলল্লীদের নিরাপত্তাদানে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও সাদা পোষাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত সদস্য নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন:

বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে মন্নু টেক্সটাইল মিলের মাঠে হামদর্দ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। হামদর্দ বোর্ড অব ষ্ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডা: এম. আর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফ প্রশাসন ফয়েজ আহাম্মেদ ভূইয়া,হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ মোতাওয়াল্লি ড. হাকিম মো. ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া,গাজীপুর সিটিকর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন,জেলা প্রশাসক এস,এম আলম ,পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ,টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এড. আজমত উল্লা খান, সিবিল সারর্জন আলী হায়দার খান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধর্মমন্ত্রী বলেন, হামদর্দ আর্তপীড়িত ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ লাখ মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের জন্য হামদর্দ প্রতিবছর যে উদ্যোগ গ্রহণ করে তা সত্যিই প্রশসংনীয়। দ্বীন ইসলামের খেদমতে যারা জান মাল ও সময় ব্যয় করছেন তাদের খেদমতের মাধ্যমে হামদর্দের সদস্যবৃন্দ অশেষ পূণ্য লাভ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। হামদর্দের মতো মানব সেবায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়াও ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প এলাকায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, ইণ্টারন্যাশনাল ইসলামী ফাউন্ডেশন, ইবনে সিনা এবং টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিসহ প্রায় ৫৪টি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফ্রি চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেছে।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির বক্তব্য:

বিশ্ব তাবলিগ জামাতের মুরুব্বীরা জানান, সারা বিশ্বে তাবলিগের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের সময় টঙ্গী তুরাগ তীরের এ বিশাল ময়দানেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আগত মুসল্লিদের যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধা ও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০১১ সাল থেকে দুই দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাবলিগ অনুসারি আর ও বারতে থাকায় মুসল্লিদের চাপ কমাতে এ বছরই ৪ভাগে ভাগ করে প্রথম পর্বে ঢাকা জেলার একাংশসহ ১৬ জেলা, দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলাসহ ঢাকা জেলার বাকী অংশের মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা ২০১৭সালের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন যারা প্রথম পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিবেন তাঁরা দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিতে পারবেন না।

প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা ময়দান ছেড়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে জেলা ওয়ারি (খেত্তা বিশেষ) মুসল্লিরা ময়দানে এসে অবস্থান নিবেন, বয়ান শুনবেন এবং দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে অংশ নিবেন। দ্বিতীয় পর্ব শেষে নিজ নিজ ঠিকানা ও গন্তব্যে ফিরে যাবেন তারা। এর মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ৫১তম বিশ্ব ইজতেমা।

/এমপি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম