ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যখন রাজাকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বানানো হয়,তখন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হয়, যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চরম অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের শামিল।’
শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে চাকরিজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারণকল্পে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ন্যাশনাল এফ এফ ফাউন্ডেশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য এখনও আন্দোলন করতে হয়। দাবি পূরণে সুপ্রিম কোর্ট যখন তাদের পক্ষে রায় দেন, তখন এ বিষয়ে আর কোনও কালক্ষেপণ করার থাকে না।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সাময়িকভাবে মুক্ত হয়েছি। এখনও আমরা পুরোপুরিভাবে মুক্ত হতে পারেনি। দেশে এখনও যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। তাই আমি বলবো, মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সবার সম্মান দেখানো উচিত।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আজকে বিচারপতিদের চাকরির বয়স ৬৭ বছর করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ না জন্মালে এই বিচারপতিরা কোথাকার বিচারপতি হতেন? তাই মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা ৬৫ বছর হওয়াটা কি অন্যায্য?’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন,‘মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাহলেই দেশের এই সূর্য সন্তানদের সম্মানিত করা হবে। ’
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. এম এ আরাফাত বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের নায্য দাবি পূরণের জন্য আজকে রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা বড় দুঃখের বিষয়। তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে নজর দেওয়া। ’
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘দেশের যে কোনও আন্দোলন ও সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সম্মান করতে হবে। ’
সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ড. এম এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা এম এ হালিম প্রমুখ।
/এসআইএস/এমএসএম/
আপ-এমপি








