করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে সর্বাত্মক লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। এর আগেরদিন বুধবার (৩০ জুন) ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে ঘরমুখী মানুষের চাপ রয়েছে চোখে পড়ার মতো। তবে দুর্ভোগ সয়েই তাদেরকে ফিরতে হচ্ছে ঘরে। যদিও ঘরমুখো এসব যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধির কোনও তোয়াক্কা করছে না।
চলমান সীমিত পরিসরের লকডাউনের কারণে বন্ধ গণপরিবহন। ফলে যাত্রীরা ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেটকার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, রিকশায় চড়ে ভেঙে ভেঙে বাড়ি যাচ্ছেন। যাত্রীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে যে যেভাবে পারছেন বাড়ি ফিরছেন। এই সুযোগে পরিবহনের চালকরাও যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন কয়েকগুণ বেশি ভাড়া। লকডাউন ও এভাবে বাড়িফেরা নিয়ে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, শিমরাইল, কাচপুর, মদনপুর, মেঘনা ঘাট এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাচপুর, তারাবো, বরপা, রুপসি, ভুলতাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
সাইনবোর্ড থেকে মিনি ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছেন কুমিল্লা হোমনার মোতাহের হোসেন। তিনি জানান, একটি কনস্ট্রাকশন ফার্মে লেবারের কাজ করতেন। কাজ করলে সপ্তাহ শেষে বেতন পেতেন। কিন্তু লকডাউনে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজ বন্ধ হয়ে গেলে টাকা পাওয়া যাবে না। তবে খাবো কী? তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কুমিল্লার সাব্বির আহমেদ। কাল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তা বন্ধ থাকবে সাত দিন। তিনি বলেন, যে মেসে খাওয়া-দাওয়া করতাম, সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ বাড়ি চলে গেছে। যে টাকা বেতন পাই, তা দিয়ে হোটেলে খেলে বাড়িতে পরিবারের কাছে কোনও টাকা পাঠাতে পারবো না। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।
পথে পথে ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন নোয়াখালীর রাজ্জাক মিয়া ও খলিল মিয়া। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার লকডাউন দিচ্ছে। কিন্তু খেটে-খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করেনি। তাদের দাবি, আমারা গ্রাম থেকে শহরে এসেছি কাজ করার জন্য। কাজ করলে টাকা পাই। কিন্তু লকডাউনের কারণে ৫-৬ দিন ধরে কোনও কাজ নেই। পকেটে টাকা-পয়সা শেষ। আবার নাকি লকডাউন বাড়াইছে। তাই নারায়ণগঞ্জ ছাড়তেছি। গ্রামে গিয়ে কী করবো, তা নিয়ে চিন্তা করতেছি।
উল্লেখ্য, চলমান লকোডাউনে নারায়ণগঞ্জে সব ধরনের দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকলেও মানুষ অবাধে বাইরে চলাচল করছে। মাস্ক ব্যবহার কিংবা সামাজিক দূরত্বের কোনও বালাই নেই। বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ গণপরিবহনগুলো বন্ধ থাকলেও ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের মাধ্যমে গন্তব্যের দিকে ছুটছেন বিভিন্ন শেণিপেশার মানুষ। নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকের ছড়াছড়ি। লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর হলেও সাধারণ মানুষ তা মানছে না। তবে চেকপোস্টগুলোতে অনিয়ম দেখলে জরিমানাও করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাচপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ দুই মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। সকাল থেকে যাত্রীরা যে যেভাবে পারছেন বাড়ি যাওয়া চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, মহাসড়কে রিকশা সিএনজিতে করে অনেকই বাড়ি ফিরছেন। পুলিশ যাদের আটক করতে পারছে, তাদের বিরুদ্ধে মামালা দিচ্ছে। গণপরিবহন যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য দুই মহাসড়কে ছয়টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। মহাসড়কে পুলিশের তৎপরতার কারণে কোনও গণপরিবহন চলতে পারছে না।









