নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুল ইসলাম জানান, এ আগুনের কারণ অনুসন্ধান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে যদি মালিকপক্ষের গাফিলতি থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।
তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের সে ত্রুটিগুলো যাতে অন্যকোনও প্রতিষ্ঠানে না থাকে শ্রমিক নিরাপত্তার জন্য সে ব্যবস্থা করতে হবে। যেকোনও প্রতিষ্ঠানে আগুন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নেওয়ার আইন রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো কি-না সেটিও আমরা দেখবো। এছাড়া নাশকতার বিষয়টিও আমরা মাথায় রেখে অনুসন্ধান করছি।
পিবিআই-এর এ এসপি জানান, বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) থেকেই তারা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে এ অনুসন্ধান শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার ছয়তলা ভবনটিতে তখন প্রায় ৪০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কিকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্লোরে।
প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় কয়েকটি ফ্লোরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের ২০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। শুক্রবার (০৯ জুলাই) দুপুরে কারখানার ভেতর থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনজন নিহত হয়। সবমিলিয়ে, এ পর্যন্ত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। কারখানায় আগুনের ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।









