লাশের জন্য স্বজনরা কখনও ফ্যাক্টরিতে কখনও ঢাকা মেডিক্যালে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
১১ জুলাই ২০২১, ১৭:৪৭আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ১৭:৪৭

নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের হাশেম ফুড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় নিহতদের পোড়া মৃতদেহের জন্য অধীর প্রতীক্ষা করছেন স্বজনরা। রবিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে বেশ কয়েকজন স্বজন নিখোঁজদের ছবি নিয়ে ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান করেছেন। তাদের একটাই দাবি, পোড়া-গলা যা-ই হোক মৃতদেহ চাই। এজন্য লকডাউনের মধ্যেও নিখোঁজদের ছবি নিয়ে কখনও তারা ফ্যাক্টরিতে, কখনও রূপগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিক্যালে ছুটছেন।

আগুনে পোড়া হাসেম ফুডের গেটের সামনে কাঁদছিলেন রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকার মিতু আক্তারের (১৪) বাবা গোলাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে এ কারখানায় কাজ করে। বড় মেয়ের রাতে ডিউটি থাকার কারণে ঘটনার সময় সে ফ্যাক্টরিতে ছিল না। তাই সে বেঁচে গেছে। ছোট মেয়ে মিতু আমার পকেট থেকে দশ টাকা নিয়ে এসে কাজে যোগ দিয়েছিল। সেই যে আসলো, আর তো মেয়ে ফিরলো না।’ এই বলে তিনি আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ছেলে রিপন ইয়াসিনের জন্য লিলি বেগমের আহাজারি কান্নারত অবস্থায় তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে জীবিত, মৃত, পচা-গলা-পোড়া যা-ই থাকুক আমাকে দিয়ে দিন। তার মাকে নিয়ে শান্তনা দিই।’ এ কথা বলে হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘চারতলায় যখন মেয়ে আটকা ছিল তখন বোতলে কাগজে নানা কিছুতে লিখে বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। শুনেছি ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হাবিব তাদের চারতলার একটি এসি রুমে নিয়ে আটকে বলে এখানে আসো। অক্সিজেন পাবা। কিন্তু ম্যানেজার হাবিবসহ এ রুমে যারা ছিল সবাই মারা গেছে।’

গোলাম হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে পাশে এসে দাঁড়ালেন লিলি বেগম (৪০)। ছেলে রিপন ইয়াসিনের (১৩) ছবি নিয়ে খুঁজতে এসেছেন। সঙ্গে এসেছেন ইয়াসিনের স্কুলের শিক্ষকও। ইয়াসিন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। লকডাউনের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় এ ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু আগুন কেড়ে নিয়েছে তাকে। আর সে বাসায় ফিরতে পারেনি।

গত তিন দিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে গলা বসে গিয়ে কথা বলতে পারছিলেন না লিলি বেগম। ভাঙা গলায় তিনি বলেন, ‘ছেলে কাজে যোগ দেওয়ার পর তার জন্য দুপুরে ভাত নিয়ে আসতে চাইতাম। ছেলে বলতো মা ভাত নিয়ে আসলে মানুষ জানবে আমি কাজ করছি। মানুষ জানলে শরম লাগবে। কিন্তু আজ তিন দিন ধরে ছেলের ছবি নিয়ে আসছি। আর তো ছেলে লজ্জা পায় না। ও ছেলেরে তুই কই গেলিরে...’– বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

প্রসঙ্গত, হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় কারখানা ভবনটিতে প্রায় চারশ’র বেশি কর্মী কাজ করছিলেন। কারখানায় প্লাস্টিক, কাগজসহ মোড়কিকরণের প্রচুর সরঞ্জাম থাকায় আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় কয়েকটি ফ্লোরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের দীর্ঘ সময় লাগে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর  শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর সোয়া একটা পর থেকে কারখানার ভেতরে থেকে লাশ বের করে আনতে থাকেন উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় ৪৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, আগুনে নিহত তিন জনের লাশসহ মোট ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়। কারখানায় আগুনের ঘটনায় আরও অনেক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম