মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার সাত্তার মাদবর মঙ্গলমাঝি নৌপথে ফেরি চলাচল শুরুর জন্য নতুন করে ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘাট দিয়ে যেকোনো সময় ফেরি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরিগুলো বার বার পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দেওয়ার কারণে এখন এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। বিকল্প পথ হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শিমুলিয়া-বাংলাবাজারের পরিবর্তে নতুন করে শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে ফেরি চলবে। তবে কবে নাগাদ ফেরি চালু হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মাঝিকান্দি ফেরিঘাট নির্মাণের কাজ শেষপর্যায়ে।
জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের পর পদ্মা নদীর স্রোতের তীব্রতা কমে গেলে আবার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলবে। পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ধাক্কার ঘটনায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে গত ১৮ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৩ আগস্ট থেকে শুধু ছোট ফেরি চলছিল দিনের বেলায়।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, নতুন নৌপথে ফেরি আসা-যাওয়ায় পদ্মা সেতুর পিলার পড়বে না। শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাঝিকান্দি ঘাটের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। সময় লাগবে আগের চেয়ে ১০-১৫ মিনিট কম। তবে মাঝিকান্দি ঘাটে গাড়ি রাখার পার্কিং ইয়ার্ড নেই। শুধু একটি ফেরির পন্টুন স্থাপন করা হবে। মাঝিকান্দি ঘাটে প্রবেশের জন্য ১৮ ফুটের একটি সড়ক আছে। যদি বড় ফেরি দেওয়া হয় তবে ভারী যানবাহন চললে এই সড়ক যেকোনো সময় ভেঙে যাবে। ফেরি পারের জন্য সড়কের ওপর অপেক্ষা করতে হবে। পরীক্ষামূলক ফেরি চালানোর পর ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হলে তা করা হবে।
বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঝিকান্দি ঘাট নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। নতুন এই ঘাট এলাকায় প্রায় সাত হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিমুলিয়া ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি নৌপথে ফেরি চলাচল কবে থেকে শুরু হবে তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। ফেরি চালু হলে নতুন নৌপথে শুধু ছোট ফেরিগুলো চলাচল করবে। পার করা হবে শুধু প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স। বড় ও ভারী কোনও যানবাহন পার করা হবে না।
তিনি বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত। এই স্রোত না কমা পর্যন্ত নৌপথ ব্যবহার করা যাবে না। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে একটি ইউটিলিটি পন্টুন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাঝিকান্দি ঘাটে। পরীক্ষামূলক ফেরি চালুর পর বলা যাবে, চলাচলে কোনও অসুবিধা আছে কিনা।
বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারিস আহামদ পাটোয়ারী বলেন, গত ২০ আগস্ট থেকে মাঝিকান্দি ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচলের কথা ছিল। একই সঙ্গে শুক্রবার থেকে ফেরি চলাচল শুরুর কথা শুনেছিলাম।
শিমুলিয়া নদীবন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক ও সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার অনলাইনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। ঘাট সংশ্লিষ্ট, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা আছে। সেখান থেকে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঘাটটি কবে নাগাদ চালু হবে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা শুধু জরুরি যানবাহনের জন্য ব্যবহার হবে নাকি নিয়মিত ঘাট হিসেবে ব্যবহার হবে তা পরে জানা যাবে।









