নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং বাবুরাইল এলাকায় যে ফ্ল্যাট বাসায় দুই শিশুসহ ৫ খুনের ঘটনা ঘটেছে সেই বাসায় খুনিদের অবাধ যাতায়াত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিউদ্দিন জানান, আমরা ধারনা করছি পারিবারিক বিরোধ নিয়েই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। ঘাতকেরা ঘরের কোন কিছুতে হাত দেয়নি। ঘরের কোন ক্ষতিও করেনি। যারা হত্যা করেছে তারা অপেশাদার খুনি বলেই আমাদের মনে হয়েছে এবং তারা পূর্ব পরিচিত। কারণ,একজন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবকের উপস্থিতিতে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা পূর্ব পরিচিত হিসেবেই কক্ষে প্রবেশ করেছিল।
ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) মোহাম্মদ আলী জানান, ঘটনাটি দিনের বেলা যেকোন সময়ে ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। অপরাধীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ কর পালিয়ে গেছেন।
শনিবার রাত ১২টায় এ দুইজন ঘটনাস্থলের পাশে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) একটি ক্রাইম টিম তদন্তের কাজ শুরু করেছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির এএসপি আবদুস সালামের নেতৃত্বে এ টিম আলামত সংগ্রহের কাজ করছেন।
এর আগে রাতে ২নং বাবুরাইল এলাকার ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন ‘আশক ভীলা’ নামের ৬ তলা ভবনের নিচতলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোটভাই মোরশেদুল (২২) ও তার জা লামিয়া (২৫)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা, পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনসহ র্যাব ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ হাজী ওবায়েদুল্লাহ জানান, তিনি খবর পেয়ে ওই কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন সেখানে একটি কক্ষে ৩ জনের লাশ ও অপরকক্ষে ২ জনের লাশ দেখতে দেখতে পেয়েছেন। তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
/এমএসএম/
/আপ-এএ/








